একাদশ শ্রেণীর ভূগোল// অধ্যায়ঃজলসেচ ও জলসংরক্ষণ //WBHSE//CLASS 11//WATER RESOURCE: IRRIGATION AND CONSERVATION
1. জলসেচের সংজ্ঞা দাও।
উঃ কৃষিকাজ করার জন্য নদী, পুকুর, খাল, জলাশয় থেকে যে জল এনে কৃষি জমিতে দেওয়া হয় বা সেচন করা তাকে জলসেচ বলে ।
2. মুক্ত পদ্ধতি কাকে বলে?
উঃ স্বল্প ভূমিঢাল সম্পন্ন কৃষি জমির কাছে বিভিন্ন জলাশয় থেকে খালের মাধ্যমে কৃষিকাজে জল সরবারহ করা হয় তাকে মুক্ত বা নালা পদ্ধতি বলে।
3. নিয়ন্ত্রিত জলসেচ কাকে বলে ?
উঃ যেসব যন্ত্র দিয়ে জমিতে জল দিয়ে ফসল উৎপাদন করা হয় , সেই ব্যবস্থাকে বলা হয় নিয়ন্ত্রিত জলসেচ পদ্ধতি । এই পদ্ধতি দুই প্রকার । যথা—
বৃহৎ স্তরের সেচ পদ্ধতি : বিশাল এলাকা জুড়ে ফসল উৎপাদনের উদ্দেশ্যে জমিতে যে সেচ পদ্ধতি ব্যবহৃত হয় , তাকে বৃহৎ স্তরের সেচ পদ্ধতি বলে । যথা — প্লাবন সেচ পদ্ধতি , কিনারা সেচ পদ্ধতি ইত্যাদি ।
তরঙ্গায়িত জলসেচ পদ্ধতি : কোনো জমিতে নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধান রেখে জলের জোগান বজায় রাখার পদ্ধতিকে বলা হয় তরাঙ্গিত জলসেচ পদ্ধতি ।
4. নল পদ্ধতির সংজ্ঞা দাও।
উঃ কৃত্রিম ভাবে বিভিন্ন প্রযুক্তির সহায়তায় স্বল্প পরিমাণ জলের সাহায্যে বেশী পরিমাণ কৃষিজমিতে চাষ করে তাকে নল পদ্ধতি বলে।
5. একটি মুক্ত পদ্ধতির উদাহরণ দাও।
উঃ প্লাবন খাল ও নিত্যবহ খাল
6. বিন্দু পদ্ধতি কী?
উঃ ড্রিপ সেচ হল সবচেয়ে উদ্ভাবনী মাইক্রো সেচ প্রযুক্তিগুলির মধ্যে একটি যা ফসলের উপর নির্ভর করে 40-50% পর্যন্ত জল সংরক্ষণের সম্ভাবনা রাখে।
7. প্লাবন খাল কাকে বলে?
উঃ যেসব নদী কেবল বর্ষার প্লাবনে জলপূর্ণ হয় এবং বছরের অন্য সময় ক্ষীণকায়া সেসব নদী থেকে খনন করা খালগুলিকে বলে প্লাবন খাল।
৪. ভারতের একটি নিত্যবহ খালের উদাহরণ দাও।
উঃ যেসব নদীতে সাআবছর জল থাকে সেসব নদী থেকে খনন করা খালগুলিকে বলে নিত্যবহ খাল।যেমনঃ উত্তরপ্রদেশের উচ্চগঙ্গা খাল এবং পূর্ব সমুনা খাল।
9. ভারতে সর্বাধিক জলাশয় সেচ কোথায় হয়?
উঃ উত্তর প্রদেশে
10. পাকিস্তানের একটি সেচখালের উদাহরণ লেখো।
উঃ সিন্ধুনদের পশ্চিমাঞ্চল ও উচ্চ সিন্ধু উপনদী অঞ্চল
11. আসোয়ান বাঁধ কোন নদীর উপর অবস্থিত?
উঃ আসোয়ান বাঁধ নীলনদের উপর দেওয়া হয়েছে।
12. জলবিভাজিকা কাকে বলে?
উঃ পাশাপাশি অবস্থিত দুই বা ততোধিক নদী অববাহিকা যে উচ্চভূমি দ্বারা পৃথক থাকে, তাকে (Water-Shed Or, Water-Parting) বলে । সাধারণতঃ পাহাড় – পর্বত, মালভূমি ইত্যাদি জলবিভাজিকার ভূমিকা পালন করে ।
13. জল সংরক্ষণ বলতে কী বোঝো?
উঃ পৃথিবীতে স্বাদু জলের পরিমাণ সীমিত। কিন্তু তা সত্ত্বেও আমাদের চারপাশে বিভিন্নভাবে বিপুল পরিমাণে জলের অপচয় হয় বা জল দূষিত হয়ে ব্যবহারের অনুপযােগী হয়ে পড়ে। এজন্য, যে বৈজ্ঞানিক উপায়ে একদিকে জলের অপচয় রােধ করা যায় এবং অন্যদিকে জলের প্রাকৃতিক ও রাসায়নিক ধর্ম বা উপযােগিতা বজায় রাখা যায়। এর ফলস্বরূপ বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রয়ােজনমতাে জলের চাহিদা মেটানাে যায়, তাকেই বলে জল সংরক্ষণ।
14. নলকূপ পদ্ধতির একটি সমস্যা লেখো।
উঃ
- স্বল্প পরিমাণ জমিতে জলসেচঃ কূপ এবং নলকূপের সাহায্যে একসঙ্গে খুব বেশি পরিমাণ জমিতে জলসেচ করা যায় না।
- ভৌমজলস্তর হ্রাস : গ্রীষ্মকালে বা শুখা মরশুমে ভৌমজলের স্তর নেমে গেলে কূপ এবং নলকূপ অকেজো হয়ে যায়।
- দূষকের মাত্রা বৃদ্ধি : কূপ থেকে বেশি পরিমাণে ভৌমজল উত্তোলনের ফলে জলে আর্সেনিক, ফ্লুরাইড প্রভৃতি দূষকের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।
- পানীয় জলের সংকট : কুপ থেকে অধিক পরিমাণে জল তােলা হলে আশেপাশের এলাকায় পানীয় জলের সংকট সৃষ্টি হয়।
15. ক্যারেজ প্রথা কী ?
উঃ পাকিস্তানের শুষ্ক পশ্চিমাঞ্চলে মাটির নীচে সুড়ঙ্গ কেটে কৃষিক্ষেত্রে যে জল নিয়ে যাওয়া হয় , তাকে ক্যারেজ প্রথা বলে। পার্সি শব্দ ক্যারেজ (Karez) এর অর্থ হল চ্যানেল (Channel) অর্থাৎ খাল। ক্যারেজ প্রথার মূল উদ্দেশ্য হল মরু বা শুষ্ক অঞ্চলে সেচের জলের বাষ্পীভবন রোধ করা।.
16. বহুমুখী নদী উপত্যকা পরিকল্পনার উদাহরণ দাও।
উঃ যে পরিকল্পনার মাধ্যমে কোন অঞ্চলের সামগ্রিক বিকাশ সাধনের উদ্দেশ্যে অনুকূল ভূ- প্রাকৃতিক ও জলবায়ু যুক্ত অঞ্চলে নদীর উপর বাঁধ দিয়ে জলাধার নির্মাণের মাধ্যমে একই সাথে বহুমুখী উদ্দেশ্য পূরণ করাকে, বহুমুখী নদী পরিকল্পনা বলা হয়। ভারতের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বহুমুখী পরিকল্পনা হল - a) ভাকরা নাঙ্গাল নদী পরিকল্পনা, b) দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন, c) হিরাকুদ নদী পরিকল্পনা, d) তুঙ্গ ভদ্রা বহুমুখী নদী পরিকল্পনা, e) নর্মদা নদী পরিকল্পনা প্রভৃতি।
17. ধারণ অববাহিকা কাকে বলে?
উঃ নদীর উৎস অঞ্চলে বহু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলধারা একত্রে মিলিত হয়ে একটি নদীরূপে একটি নিদির্ষ্ট খাতে উচ্চভূমি থেকে নিম্নদিকে প্রবাহিত হয় । নদীর উৎস অঞ্চলের এই অববাহিকাকে ধারণ অববাহিকা (Catchment Basin) বলে।উদাহরনঃ গঙ্গা নদীর উৎস গোমুখ থেকে হরিদ্বার পর্যন্ত গঙ্গার ধারন অববাহিকার অন্তর্গত।
18.ফারো পদ্ধতি কী ?
উঃ চওড়া নালা থেকে সমান্তরালভাবে আরো অনেক নালা দিয়ে জলসেচ করা হলে তাকে ফারো পদ্ধতি বলে ।

0 Comments