Ad Code

Ticker

7/recent/ticker-posts

মৌসুমী বায়ু ও তার বৈশিষ্ট্য সমূহ // monsoon and its characteristics

মৌসুমী বায়ু  ও তার বৈশিষ্ট্য সমূহ 



 ভুমিকাঃ মৌসুমি বায়ু দক্ষিণ এশিয়া এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জলবায়ুতে সর্বাপেক্ষা প্রভাব বিস্তারকারী বায়ুপ্রবাহ। গ্রীষ্ম ও শীত কালে  সমুদ্র ও ভূ-পৃষ্ঠের উত্তাপ এবং শীতলতার তারতম্যের ফলে ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মৌসুমি বায়ুপ্রবাহের দিকও পরিবর্তিত হয়। শীত কালে শুষ্ক  মৌসুমি বায়ু উত্তর-পূর্ব দিক (ভূভাগ) থেকে সমুদ্র অভিমুখে প্রবাহিত হয় এবং গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম (সমুদ্রভাগ) থেকে ভূমি অভিমুখে প্রবাহিত হয়। ধারণা করা হয়, এই মৌসুমি বায়ুর  সূত্রপাত ঘটে ১ কোটি ২০ লক্ষ বৎসর পূর্বে (মধ্য মায়োসিন) হিমালয় পর্বতমালা সৃষ্টির সময় থেকে।

মৌসুমি বায়ু কাকে বলে? স্থল ও জলভাগের মধ্যে চাপের তারতম্য জনিত কারণে প্রতিবছর একটি নির্দিষ্ট ঋতুতে জলভাগ ও স্থলভাগের মধ্যে যে বিপরীতমুখী বায়ু প্রবাহিত হয়, তাকে মৌসুমি বায়ু বলে।

ব্যুৎপত্তিগত অর্থঃ মৌসুমি শব্দটির উৎপত্তি আরবীয় শব্দ মৌসিন থেকে যার অর্থ ঋতু। তাই মৌসুমি হচ্ছে একটি ঋতুভিত্তিক বায়ু যা ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে বায়ু প্রবাহের দিকেরও পরিবর্তন করে থাকে।বিট্রিশ বিজ্ঞানী এডমণ্ড হ্যালি প্রথম ধারণা দেন। 

অবস্থান – সাধারনত নিরক্ষরেখার উপরে ১০ ডিগ্রি থেকে ৩০ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশের মধ্যবর্তী অঞ্চলে মৌসুমি বায়ুর দ্বারা প্রভাবিত অঞ্চলে এই জলবায়ু দেখা যায়।

মৌসুমী বায়ুর অবস্থান

মৌসুমী বায়ুর অবস্থানকে দুভাগে ভাগ করা যায়

ক। অখাংশ অনুসারে 

নিরক্ষরেখার উভয় গোলার্ধে ১০ থেকে ৩০ ডিগ্রি অখাংশের মধ্যে মৌসুমী বায়ু বিরাজ করে।



খ। দেশীয় অবস্থান


দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুল যেমন ভারত পাকিস্তান বাংলাদেশ শ্রীলংকা মায়ানমার, মালশিয়া,থাইল্যান্ড প্রভৃতি দেশে বিরাজ করে এছাড়া আফ্রিকার মাদাগাস্কার ও মোজাম্বিক অঞ্চলে, দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিম অংশে, ফ্লোরিডা উপকুলে মৌসুমী জলবায়ু বিরাজ করে।


মৌসুমী জলবায়ুর বৈশিষ্ট 


বৃষ্টিপাতের অসম বণ্টন :- মৌসুমী জলবায়ুর খামখেয়ালি অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট । কারণ বছরের নির্দিষ্ট সময়ের আগে কখন আসে আবার, দেরি করে প্রবাহিত হয়।


ঋতু বৈচিত্র্য :- মৌসুমী বিরাজমান অঞ্চলে বছরের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ঋতু বিরাজ করে। 


উষ্ণতা:- দুই বিপরীতধর্মী মৌসুমী বায়ুর আগমন ও প্রত্যাবর্তনের কারণে উষ্ণতার তারতম্য লক্ষ্য করা যায়। এই জলবায়ুতে গড় উষ্ণতা থাকে গ্রিশ্মকালে ২৭-৩২° এবং শীতে ১৫-২২° এবং উষ্ণতার প্রসর থাকে ২-১১°


বৃষ্টিপাত:- মৌসুমী জলবায়ুর দেশগুলোতে বার্শিক বৃষ্টির পরিমাণ ১৫০ থেকে ২০০সেমি হয়। 


বায়ুর চাপ:- মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চলে গ্রিশ্মকালে স্থলভাগের উপর সূর্যের লম্বভাবে পতিত হওয়ায়  অত্যাধিক উষ্ণ হয়ে থাকে, ফলে গভীর নিম্ন চাপের সৃষ্টি হয়। এবং শীতকালে সূর্যের দখিনায়নের কারণে স্থলভাগের উষ্ণতার হ্রাস পেয়ে উচ্চ চাপের সৃষ্টি হয়। 


বায়ুপ্রবাহ:- দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমী বায়ু মে মাসে সমুদ্র থেকে স্থলভাগের দিকে প্রবাহিত হয়ে থাকে।শীতকালে উত্তর পূব মৌসুমী বায়ু স্থলভাগ থেকে জলভাগের দিকে প্রবাহিত হয়ে থাকে।


স্থানীয় বায়ু :- মৌসুমী বায়ু গরমকালে অত্যাধিক তাপমাত্রার কারণে গভীর নিম্ন চাপের সৃষ্টি করে। ফলে বিকেল দিকে পরিচলন পদ্ধতিতে বৃষ্টি হয়। একে স্থানীয় ভাষায় পশ্চিম বঙ্গে কালবৈশাখী , আসামে বরদৌছিলা, এবং দক্ষিণ ভারতে আম্রবৃষ্টি  বলে। 


মৌসুমী বিস্ফোরণ :-  কোন কোন বছর মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে ভারতে দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে স্বাভাবিকের থেকে অনেক বেশী বৃষ্টি হয়ে থাকে, একে মৌসুমী বিস্ফোরণ বলে।


sayantani singh G.





Reactions

Post a Comment

0 Comments

Ad Code