Ad Code

Ticker

7/recent/ticker-posts

মাধ্যমিক ভূগোল// বায়ুমণ্ডল // গুরুত্বপুর্ণ প্রশ্ন উত্তর // important question of atmosphere//class10 //wbbse

মাধ্যমিক ভূগোল// বায়ুমণ্ডল // গুরুত্বপুর্ণ প্রশ্ন উত্তর // important question of atmosphere//class10 //wbbse 




ওজোনস্তরকে প্রাকৃতিক সৌরপর্দা বলা হয় কেন?

উঃ বায়ুমণ্ডলের স্ট্রাটোস্ফিয়ার স্তরে 20 থেকে 30 কিলোমিটার উচ্চতায় ওজোন গ্যাসের ঘনত্ব বেশি থাকায় এই স্তরকে ওজোন স্তর বলে। ওজোন গ্যাস সূর্য থেকে আগত জীবের পক্ষে ক্ষতিকারক রশ্মি গুলিকে শোষণ করে পৃথিবীর জীবকে রক্ষা করে। এই কারণে ওজোন স্তরকে “প্রাকৃতিক সৌরপর্দা” বলে।

সূর্য থেকে আগত ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মির  ৯৭-৯৯%  অংশই ওজোন স্তরে শোষিত হয়ে যায়। ওজোন স্তর না থাকলে এই ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি সরাসরি ভূপৃষ্ঠে এসে পড়ত।  ছাতার  মত  ওজোন স্তর তেমন সূর্য থেকে আগত ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মির পৃথিবীতে আগমনকে রক্ষা করে বলে তাই ওজোন স্তরকে প্রাকৃতিক সৌরপর্দা' বলা হয়।


আয়োনোস্ফিয়ারে মেরুজ্যোতি সৃষ্টি হয় কেন?

উঃ উভয় মেরু অঞ্চলে যখন একটানা দীর্ঘ 6 মাস ব্যাপী রাত্রি চলে, তখন মাঝে মাঝে আকাশে রামধনুর মত এক ধরনের অস্পষ্ট আলো দেখা যায়। একে মেরুজ্যোতি বা মেরু প্রভা বলে।

সূর্য থেকে আসা রঞ্জন , গামা , অতিবেগুনি রশ্মি, বায়ূমণ্ডলের পরমানুকে ভেঙ্গে  শক্তিশালী ইলেকট্রন এবং প্রোটনের সংস্পর্শে এসে  মেরু অঞ্চলের আকাশে মৃদু আলোক যুক্ত লাল, সবুজ বা সাদা রঙের এক ধরনের রশ্মির আবির্ভাব ঘটে


মেরুজ্যোতি বা মেরু প্রভা দু ধরনের হয়। যথা-

সুমেরু প্রভা-সুমেরু অঞ্চলে সৃষ্ট মেরুজ্যোতি বা মেরু প্রভাকে সুমেরু প্রভা বা অরোরা বোরিয়ালিস বলা হয়।।

কুমেরু প্রভা-কুমেরু অঞ্চলে সৃষ্ট মেরুজ্যোতি বা মেরু প্রভাকে কুমেরু প্রভা বা অরোরা অস্ট্রালিস বলা হয়।।

স্ট্যাটোস্ফিয়ারে জেট প্লেন যাতায়াত করে কেন ?

উঃ স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার স্তরে আবহাওয়া ও জলবায়ুর বিভিন্ন উপাদান , যেমন — বায়ুপ্রবাহ , আর্দ্রতা , মেঘ , ধূলিকণা , কুয়াশা প্রভৃতি থাকে না । ঘনীভবন প্রক্রিয়া কার্যকর নয় বলে আবহাওয়া ও জলবায়ুর বিভিন্ন ঘটনাও এখানে ঘটে না । তাই এই অংশে সর্বদাই শাস্তভাব বিরাজ করে । সর্বদা শাস্তভাব বিরাজ করে বলেই অতি দ্রুতগামী জেট প্লেন কোনোরূপ বাধার সম্মুখীন হয় না , তাই জেট প্লেনগুলি এই স্তরে যাতায়াত করে ।

ওজোন গ্যাসের গুরুত্ব লেখ?

উঃ সংজ্ঞাঃ

স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার বা শান্তমণ্ডলের মধ্যে ১৫-৩০ কিমি উচ্চতার মধ্যে ওজন গ্যাসযুক্ত যে বায়ুস্তরটি রয়েছে তাকে ওজোন মণ্ডল বা ওজোন স্তর বলা হয় ।

ওজোন গ্যাসের গুরুত্ব:

১। ওজোনস্তর ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মির  ৯৭-৯৯%  অংশই শোষণ করে নেয়। 

২। ছাতার  মত  ওজোন স্তর তেমন সূর্য থেকে আগত ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মির পৃথিবীতে আগমনকে রক্ষা করে বলে তাই ওজোন স্তরকে প্রাকৃতিক সৌরপর্দা' বলা হয়।

৩। এই স্তরে বায়ুমণ্ডলের নিচের স্তরে তাপমাত্রা কম থাকে। 

৪। ওজোন স্তর বিভিন্ন রোগের হাত থেকে মানুষকে রক্ষা করে থাকে।

৫। বাস্তুতন্ত্র রক্ষা পায়। 

৬। জলবায়ুর ঋণাত্মক পরিবর্তন হয় এবং বিশ্বায়ন প্রভৃতি কুপ্রভাব হ্রাস পায়। 

ওজোন স্তর সৃষ্টি হয় কিভাবে?

উঃ আলোক রাসায়নিক বিক্রিয়ায় একটি অক্সিজেন অনু অতিবেগুনি রশ্মির UV-Bআঘাতে দুটি অক্সিজেন পরমানুতে বিয়োজিত হয়। অবিয়োজিত অক্সিজেন অনুর সাথে অক্সিজেন পরমানুর সংযোগের ফলে সৃষ্টি হয় একটি অক্সিজেন ওজোন অনুর, O2+O= O3 । এই ওজোন অনুর সমন্বয়ে সৃষ্টি হয়েছে ওজোন স্তর। 

ওজোন গহ্বর কি?

উঃ স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের ওজোনস্তরের ঘনত্ব ২০০ ডবসন ইউনিটের কম হলে অতিবেগুনি রশ্মির প্রবেশ ঘটে। একে ওজোন গহ্বর বলে। 

ওজোন স্তর বিনাশের কারণ কি কি?

উঃ বায়ুমন্ডলে ওজোন স্তরের ঘনত্ব সর্বত্র সমান নয়। ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন বায়ুতে এই গ্যাসের উপস্থিতি অতি নগন্য। স্ট্যাটোস্ফিয়ারে ১৫-৩০ কিমি এর মধ্যে ওজোন স্তরের ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি। বায়ুমন্ডলে  এই ওজোন গ্যাসের আবরণকে, ওজোন স্তর বলে। বায়ুমণ্ডলে ওজোন গ্যাসের ঘনত্বকে ডবসন এককে প্রকাশ করা হয়। ১৮৪০ সালে স্কোনবি ওজোন গ্যাস আবিষ্কার করেন। এরপর ১৯১৩ সালে ফরাসি বিজ্ঞানী হেনরি বুশন ও চালস ফেব্রি বায়ুমণ্ডলে ওজোন স্তর আবিষ্কার করেন। ওজোন স্তর বিনাশের কারণ গুলি হল 

১) প্রাকৃতিক কারণ

২) অপ্রাকৃতিক কারণ

১) প্রাকৃতিক কারণঃ

ক) প্রাকৃতিক ঘটনা ঃ  অগ্ন্যুৎপাত , বজ্রপাত,প্রভৃতি প্রাকৃতিক ঘটনায়  ওজোন স্তর বিনাশ হয় 

খ) অতিবেগুনি রশ্মির সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঃ সূর্যের অতিবেগুলি রশ্মির উপস্থিতিতে একটি ওজোন কনার সাথে একটি অক্সিজেন পরমানুর আলোক রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে ওজোন ধ্বংস হয়। এই বিক্রিয়ায় ওজোন কনাটি অক্সিজেন অনুতে পরিনত হয়। O3 + UV = O2 + O

গ) সূর্যরশ্মির পরিমাণ বৃদ্ধিঃ প্রতি ১০ থেকে ১৫ বছর অন্তর সুর্যরশ্মির পরিমাণ বাড়ে। ফলে সুর্য থেকে আগত ক্ষুদ্র তরঙ্গ রশ্মির পরিমাণ বাড়লে বায়ুতে নাইট্রোজেন নাইট্রাস অক্সাইডে পরিণত হয়। যার ফলে ওজোন স্তর নষ্ট হয় 

ঘ) বায়ুর উদ্ধস্তরের সঞ্চালন ঃ মেরু অঞ্চলে বিশেষত কুমেরু অঞ্চলের অপর থেকে ওজোন গ্যাস পরিবাহিত হয়ে উপমেরু অঞ্চলে সঞ্চিত হয়। এর ফলে কুমেরু অঞ্চলে ওজোন স্তর পাতলা হয়ে ওজোন গহবর তৈরির পরিবেশ সৃষ্টি হয় 

২) অপ্রাকৃতিক কারণঃ মানুষের নানাবিধ কাজকর্মের ফলে বিভিন্ন গ্যাস উৎপন্ন হয় যে গুলি ওজোন গ্যাসের সাথে বিক্রিয়া করে এই স্তরের বিনাশ ঘটায়।

১।  স্ট্যাটোস্ফিয়ারের সুপারসনিক বিমান থেকে নির্গত জলীয় বাষ্প ও নাইট্রোজেনের অক্সাইড সমূহ ওজোন গ্যাসের সাথে বিক্রিয়া করে ওজোন স্তর কে বিনাশ করে দেয়। যেমন – O3 + NO = NO2 + O2

২।শিল্পাঞ্চলে কারখানার চিমনি থেকে নির্গত ভাসমান সালফেট এরোসল ওজোন অনুকে বিয়োজিত করে অক্সিজেন অনু ও পরমানুতে রূপান্তর ঘটায়। ফলে ওজোন স্তর ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। 

৩। CFC ও ক্লোরোফ্লুরোমিথেন প্রধান ওজোন ধ্বংসকারী গ্যাস। একটি CFC কনা এক লক্ষেরও বেশি ওজোন কনাকে ধ্বংস করতে পারে। 






Reactions

Post a Comment

0 Comments

Ad Code