মাধ্যমিক ভূগোল // 2 নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর // WB 10 // geography // Important question answer for 2 marks // GEOGRAPHIA
কারেওয়া কী?
উঃ জম্মু ও কাশ্মীরের কাশ্মীর উপত্যকার প্রাচীন মৃত্তিকায় গঠিত ধাপযুক্ত
ভূমিকে কারেওয়া বলে।
উৎপত্তি: প্রাচীনকালে এখানে সভীসার
নামে একটি বড়ো হ্রদ ছিল। পরে বিভিন্ন ভূতাত্তিক যুগে হিমবাহ ও নদীর মিলিত সঞ্চয় কার্যের
ফলে হ্রদটি ভরাট হয়ে কাশ্মীর উপত্যকার সৃষ্টি হয়েছে। উপত্যকার ধাপযুক্ত ভূমিকে কারেওয়া
বলে।
বৈশিষ্ট্য:
1. কারেওয়া মূলত ধাপযুক্ত ভূমিভাগ
।
2. এর উচ্চতা ১০০ থেকে ২০০ মিটার
হয়।
3. প্রবেশ্য মৃত্তিকা স্তর দেখা
যায়।
4. গ্লিস্টোসিন উপযুগে কারেওয়া
মৃত্তিকা সৃষ্টি হয়েছে।
5. সূক্ষ্ম পলি, কাদা, বালি ও বোল্ডার
নিয়ে এই মৃত্তিকা গঠিত।
গুরুত্ব:
1. কারেওয়া মৃত্তিকা প্রায় অনুর্বর
হলেও স্থানীয় জনসংখ্যার চাপে কৃষিকাজ করা হয়।
2. এই মাটিতে জাফরান চাষ খুব ভালো
হয়।
3. আপেল, ওয়ালনাট ও আলমন্ড প্রভৃতি
বিভিন্ন রকম ফল উৎপন্ন হয় এই মৃত্তিকায়।
হিউমাস কাকে বলে?
উঃ মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ
মৃত্তিকায় অবস্থিত অতি সূক্ষ্ম জীবগোষ্ঠী দ্বারা বিয়োজনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে পরিবর্তিত
হয়ে যে কালো রঙের জটিল কলয়েডধর্মী পদার্থ সৃষ্টি করে তাকে হিউমাস বলে। এককথায়, হিউমাস
হলো-- প্রায় সম্পূর্ণরূপে বিশ্লিষ্ট ও সংশ্লেষিত কলয়েডধর্মী জটিল জৈব যৌগ।
মৃত্তিকা সৃষ্টিকারী উপাদানগুলির
নাম লেখো।
উঃ মৃত্তিকা সৃষ্টির উপাদানগুলি
হল -
·
জনক বা আদিশিলা
·
ভূপ্রকৃতি
·
সময়
·
জলবায়ু
·
জীবজগৎ
কোন্ অরণ্য অঞ্চলকে কেন ‘চিরগোধুলি অঞ্চল’ বলে?
উঃ নিরক্ষীয় চিরহরিৎ অরণ্যকে চির
গোধূলির অঞ্চল বলা হয়।
নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলের চিরহরিৎ
অরণ্য পরিলক্ষিত হয় তা অত্যন্ত উচ্চ ঘনত্ব বিশিষ্ট।
এই চিরহরিৎ অরণ্যের গাছেদের আচ্ছাদন
এতটাই গভীর ঘন হয় যে একটি প্রাকৃতিক চাঁদোয়ার মতন আচ্ছাদন সৃষ্টি হয়।
এই আচ্ছাদন দিনের বেলা অরন্যের
ভেতর সূর্যের আলোকে প্রবেশ করতে গভীরভাবে বাধা দিয়ে থাকে।
এই কম আলো প্রবেশের জন্য অরন্যের
ভেতর সবসময় একটি গোধূলির অবস্থা সৃষ্টি হয়।
তাই এই অঞ্চলকে চির গোধূলির অঞ্চল
বলা হয়।
ভারতে ‘বাগার’ ও ‘রোহি’ বলতে কী
বোঝায়?
উঃ আরাবল্লি পর্বতের পাদদেশে, মরুভূমির
একেবারে পূর্বদিকে অবস্থিত অঞ্চলটির নাম বাগার। এটি মরুভূমি এবং সমভূমির মাঝখানে অল্প
বালুকাময় স্থান এবং বেশিরভাগ জায়গা ঘাসে ঢাকা। এর মধ্যে কোথাও কোথাও কৃষিকাজ হয়।
অবস্থান: রাজস্থানের মরু অঞ্চলের
বাগার অঞ্চলের পশ্চিমদিককে রোহি বলে।
বিবরণ: আরাবল্লি পর্বত থেকে কয়েকটি
নদী পশ্চিমে প্রবাহিত হয়েছে। এবং মরু অঞ্চলে গিয়ে শুকিয়ে গেছে। ফলে বৃষ্টি হলে নদীগুলিতে
প্লাবন দেখা যায়। আর ওই প্লাবনে যে সমভূমি তৈরি হয় তা রোহি।
সামাজিক বনসৃজনের দুটি উদ্দেশ্য
লেখো।
উঃ সামাজিক বনসৃজনের উদ্দেশ্যগুলো
হলো:
[১] কৃষিজমির আশেপাশে অব্যবহৃত
জমিতে বনাঞ্চল গড়ে তোলা এবং পতিত জমি পুনরুদ্ধার ও ভূমিক্ষয় রোধ করা।
[২] অদক্ষ শ্রমিক ও বেকারদের কর্ম
সংস্থানের সুযােগ দেওয়া ।
[৩] মিশ্র বনভূমি সৃষ্টির মাধ্যমে
জ্বালানি কাঠ, ফলমূল ইত্যাদির যোগান দেওয়া।
[৪] পতিত ও পরিত্যক্ত জমি ব্যবহার করা।
জায়িদ শস্য কী?
উঃ খরিফ শস্য চাষের পরে এবং রবি
শস্য চাষের আগে-মধ্যবর্তী সময়ে স্বল্পকালের জন্য যে শস্য চাষ করা হয় তাকে জায়িদ শস্য
বলে। এই ধরণের শস্যকে শর্ট টার্ম ক্রপ ও বলা হয়ে থাকে। এই ফসলগুলি সাধারণ মার্চ-জুন
মাসে চাষ করা হয়।
সিরোজেম মৃত্তিকার দুটি বৈশিষ্ট্য
লেখো।
উঃ
◾ এই মৃত্তিকাকে সিরোজেম
মৃত্তিকা বলা হয়।
◾ এই মৃত্তিকা বাদামি হলুদ
বা হালকা হলুদ বর্ণের হয়।
◾ এই মৃত্তিকা সাধারণত বালি
পূর্ণ ও লবণাক্ত প্রকৃতির হয়।
তরাই অঞ্চলের পরিচয় দাও।
উঃ অর্থ : ‘তরাই’ একটি ফরাসি কথা, যার অর্থ ভিজে
ও স্যাঁতসেঁতে ভূমি। উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে হিমালয়ের ঢালু পাদদেশভূমি
তরাই অঞ্চল নামে পরিচিত। তরাই অঞ্চলের নদীর বৈশিষ্ট্য
:
·
নদীগুলি স্বাভাবিক ঢালে
অর্থাৎ উত্তর থেকে দক্ষিণে প্রবাহিত।
·
সমভূমি অঞ্চলের উপর দিয়ে
প্রবাহিত হওয়ার সময় বিস্তীর্ণ নদীখাত ও অসংখ্য নদীবাঁকে নদীগুলি প্রবাহিত।
·
নদীগুলির অধিকাংশ অগভীর
হওয়ার কারণে প্রতি বছর বর্ষাকালে বন্যা হয়। বন্যার কারণে এই অঞ্চলে প্রতিবছর নবীন
পলির সঞ্চয় ঘটে।
·
তিস্তা নদীর পূর্বপ্রান্তের
অঞ্চলটি ডুয়ার্স নামে পরিচিত।
পেট্রোরাসায়নিক শিল্প কাকে বলে?
উঃ যে শিল্পে খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক
গ্যাস থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন উপজাত দ্রব্যকে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে বিভিন্ন রাসায়নিক
ও যৌগিক (chemical and compounds) পদার্থ উৎপাদন করা হয়, সেই শিল্প পেট্রোরসায়ন শিল্প
নামে পরিচিত।
কাকে ‘শিকড় আলগা শিল্প' বলা হয়?
উঃ কার্পাস বয়ন শিল্প কে।
মানুষ ও জমির অনুপাত কাকে বলে?
উঃ মানুষ-জমি অনুপাত বলতে কোন দেশ
বা অঞ্চলের মােট জনসংখ্যার সঙ্গে কার্যকরী জমির অনুপাতকে বোঝায়। মানুষ বলতে এখানে
মানুষের কর্মদক্ষতা, জ্ঞান, বুদ্ধি, কৌশল ও সংগঠন প্রভৃতি সাংস্কৃতিক গুণাবলির সমন্বয়কে
বােঝায়।
নগরায়ণের পদ্ধতিগুলি কী কী?
উঃ নগরায়ণ পদ্ধতিগুলি হল 一
·
শহরাঞ্চলে জন্মহার ও মৃত্যুহারের
স্বাভাবিক বৃদ্ধির দরুন লােকসংখ্যা বাড়লে।
·
গ্রাম থেকে শহরে পরিব্রাজনের
ফলে শহরের জনসংখ্যা বাড়লে।
·
কিছু গ্রাম শহরের আখ্যা
পাওয়ায় সেখানে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেলে।
·
বর্তমান শহরগুলির আয়তন
বৃদ্ধির ফলে লােকসংখ্যা বেড়ে গেলে।
‘শিপিংলেন’ কাকে বলে?
উঃ মহাসমুদ্রে যে নির্দিষ্ট পথ
ধরে জাহাজগুলি যাতায়াত করে , তাকেই শিপিং লেন (Shipping Lane) বলে । মহাসমুদ্রে দুটি
স্থানের মধ্যে দূরত্ব হ্রাসের উদ্দেশ্য জাহাজগুলি মহাবৃত্ত পথ ধরেই যাতায়াত করে ।
উদাঃ- উত্তর আটল্যান্টিক সমুদ্রপথ
।
পশ্চিম ইউরোপ – ভূমধ্যসাগর – ভারত
মহাসাগর সমুদ্রপথ ।
বন্দরের পশ্চাদভূমি কাকে বলে?
উঃ কোনো বন্দরের পিছনের স্থলভাগে যে সব অঞ্চল থেকে উদবৃত্ত রপ্তানি যোগ্য পণ্য ওই বন্দর মারফত বিদেশে পাঠানো হয় ও অঞ্চল টির প্রয়োজনীয় ঘাটতি পণ্য ওই বন্দর মারফত আমদানি করা হয় , তাকে ওই বন্দরের পশ্চাদ ভূমি বলে

0 Comments