Ad Code

Ticker

7/recent/ticker-posts

মাটির ভৌত ধর্ম বা গুণ লেখো // Physical Properties of soil

 মাটির ভৌত ধর্ম বা গুণ লেখো // Physical Properties of soil 



মাটি একটি প্রাকৃতিক বস্তু যা ক্ষয়ীভুত শিলা ও খনিজের সাথে জৈব পদার্থ ও জল  মিশ্রিত হয়ে দিনে দিনে মৃত্তিকা উৎপন্ন হয়। মৃত্তিকার কতকগুলি ধর্ম বা বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান । মৃত্তিকা অনেকগুলি জটিল ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক ক্রিয়া-প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গঠিত হয়। তাই বিভিন্ন মৃত্তিকার মধ্যে শুধু নয়, একটি মৃত্তিকার বিভিন্ন স্তরের মধ্যে মৃত্তিকার বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। প্রকৃতি অনুযায়ী মৃত্তিকার বৈশিষ্ট্য গুলিকে প্রধানত দুটি শ্রেণীতে ভাগ করা যায়। যেমন – ক) মৃত্তিকার ভৌত বৈশিষ্ট্য এবং খ) মৃত্তিকার রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য। যখন মাটির কণার পরিমাণ , আকার , আকৃতি , সজ্জিতকরণ , খনিজমিশ্রন প্রভৃতির আলোচনা করা হয় তখন তাদের মাটির ভৌত গুণ বলে ।  মৃত্তিকার ভৌত ধর্মগুলি হল -- (i) মৃত্তিকার গ্রথন (ii) মৃত্তিকার গঠন (iii) মৃত্তিকার বর্ণ বা রং (iv) আপেক্ষিক গুরুত্ব (v) মৃত্তিকার রন্ধ্র পরিসর ও সছিদ্রতা (vi) মৃত্তিকার সংহতি (vii) জলধারণ ক্ষমতা (viii) সংকোচন ও স্ফীতি (ix) জল ও আর্দ্রতা (x) তাপমাত্রা (xi) মৃত্তিকাস্থিত বায়ু (xii) মৃত্তিকার ঘনত্ব ইত্যাদি।

মৃত্তিকার গ্রথন

- মৃত্তিকাস্থিত বিভিন্ন আয়তনের কণা (যেমন - পলি বালি, কাদা প্রভৃতি) গুলির আপেক্ষিক অনুপাতকে মৃত্তিকার গ্রথন বলে। আবার, মৃত্তিকাতে ২ মিলিমিটার ব্যাসের কম আয়তনের খনিজ কণার অনুপাতকেও মৃত্তিকার গ্রথন বলে। মৃত্তিকার গ্রথন মৃত্তিকার বিভিন্ন ভৌত ও রাসায়নিক বিক্রিয়ার গতিকে প্রভাবিত করে। 

মৃত্তিকার গ্রথন, যা মৃত্তিকার সূক্ষ্মতা এবং স্থূলতাকে নির্দেশ করে। মৃত্তিকার বিভিন্ন ভৌত ও রাসায়নিক বিক্রিয়াকে মৃত্তিকার গ্রথন প্রভাবিত করে। 
মৃত্তিকার কণাগুলিকে আকৃতি অনুসারে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

(i) বৃহদাকার নুড়ি (Gravel); যে সমস্ত কণার ব্যাস প্রায় 2-75 মি. মি., তাদের নুড়ি বলা হয়। আবারকোনও কোন ক্ষেত্রে কণাগুলির ব্যাস 75 - 250 মি. মি. পর্যন্ত হয়ে থাকে। এদের বলা হয় প্রস্তর খণ্ড (Stone)। এই বৃহদাকার নুড়িখণ্ডগুলির জলধারণ ক্ষমতা অত্যন্ত কম।

(ii) বালুকণা বা (Sand) ঃ এদের আকৃতি সাধারণ গােলাকার হয়, এদের ব্যাস প্রায় 0.05 - 2 মি. মি.।এদের জলধারণ ক্ষমতা অত্যন্ত কম কিন্তু এদের মধ্যে আঠালােভাব একেবারেই না থাকায় বায়ুচলাচলের পথ সুগম।

(iii) পলিকণা বা সিস্টকণা (Silt) : পলিকণাগুলি প্রকৃতিগত ভাবে মসৃণ, অনেকটা পাউডারের মত। এদের ব্যাস প্রায় 0.002 - (0.05 মি. মি.। ভেজা অবথায় সামান্য আঠালো এবং চটচটে। পলিকণার জলধারণ ক্ষমতা মধ্যম। এই ধরনের প্রকৃতির জন্য পলিযুক্ত মৃত্তিকা উদ্ভিদ বৃদ্ধির পক্ষে সহায়ক।

(iv) কর্দম বা ক্লেকণা (Clay) কর্মকণার আয়তন সর্বাপেক্ষা বেশী। সেইজন্য এই মৃত্তিকাকণাগুলি যথেষ্ট পরিমাণ জলধারণ করতে পারে এবং পুষ্টি মৌল ধারণ করতে পারে। এই কণাগুলি মৃত্তিকার উর্বরতা বৃদ্ধি করে।

 মৃত্তিকার গঠন বা মৃত্তিকা সংযুক্তি ঃ

মৃত্তিকার গঠন হল মৃত্তিকার একটি অন্যতম ভৌত বৈশিষ্ট্য। মৃত্তিকাস্থিত কাদা, বালি, পলি প্রভৃতি বিভিন্ন আয়তনের কণা সমষ্টির বিন্যাস বা সজ্জিতকরণকে মৃত্তিকার গঠন বা সংযুক্তি বলে। মৃত্তিকার গঠনপ্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল। এর অন্যতম দুটি পর্যায় হল -- (i) জৈব পদার্থ ও কাদাকণার সংসক্তির ঝোঁকের ফলে মৃত্তিকার জৈব ও খনিজ কণাগুলির সংযুক্তি (ii) উৎপন্ন গঠনগত এককগুলির জৈবপদার্থ থেকে তৈরী আঠালো পদার্থের আবরণ তৈরীর মাধ্যমে দৃঢ়তা প্রদান। মৃত্তিকার গঠন সৃষ্টি অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া । আবহাওয়া , খনিজ প্রস্তর , দ্রবীভূত লবণ ও জীবাণুমিশ্রিত পদার্থ দ্বারা মৃত্তিকার পৃথকীকরণ ও দানাবদ্ধকরণ চলতে থাকে ।শ্রেণী : ইহা 4 প্রকার ; য
থা- ( i ) পাতের মতো , ( ii ) প্রিজমের মতো , ( iii ) খণ্ডাকৃতি , ( iv ) কণার মতো ।কাঠিন্য অনুসারেঃ- (i) কঠিন বা দৃঢ় (ii) নমনীয় ; আয়তন অনুসারেঃ- অতি সূক্ষ্ম, সূক্ষ্ম, মাঝারি, স্থূল, অতি স্থূল (৪) স্থায়িত্ব অনুসারে (৫) সংবদ্ধতা অনুসারে (৬) গঠনহীন অবস্থা অনুসারে ইত্যাদি।






মৃত্তিকার জল


ভূপৃষ্ঠের জল যখন আকর্ষণকারী বল, কৌশিক বল, সংসক্তি ও আসঞ্জন বল দ্বারা জলের নিম্ন গতির জন্য মৃত্তিকা কণার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রন্ধ্রের মধ্যে প্রবেশ করে আবদ্ধ থাকে, তখন তাকে মৃত্তিকার জল বলে। ব্রিগস্ (১৮৭৭) মাটির জলকে -- (i) মুক্ত বা মহাকর্ষীয় জল (ii) শোষিত বা আকর্ষিত জল (iii) কৈশিক জল (iv) মৃত্তিকার জলীয়বাষ্প (v) সংযুক্ত জল -- এই পাঁচটি ভাগে ভাগ করেন।কোন একটি মৃত্তিকায় জলের পরিমাণ মৃত্তিকার গ্ৰথন ও গঠনের উপরে নির্ভরশীল। বালুকাপ্রধান মৃত্তিকা শূন্যস্থানগুলি বৃহদাকৃতির হওয়ায়, এই মৃত্তিকা জল ধরে রাখতে পারে না, তাই একে ভৌতিক শুল্ক মৃত্তিকা(Physically dry soil) বলে। আবার জলবদ্ধ অবস্থায় মৃত্তিকা জলে লবণের আধিক্য থাকায় জল যথেষ্ট পরিমাণে উপস্থিত থাকলেও তা উদ্ভিদের বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহায়তা করে না, তাই একে শারীরবৃত্তীয় শুষ্ক মৃত্তিকা (Physiologically dry soil) বলে। কর্দম প্রধান মৃত্তিকার তুলনামূলক ভাবে জলধারণ ক্ষমতা অনেক বেশী। তবে দোঁয়াশ (loamy) জাতীয় মৃত্তিকায় বালুকণা ও কর্দমকণার পরিমাণ প্রায় সমান হওয়ায় খুব বেশী জল মৃত্তিকায় জমতে পারে না। তাই দোঁয়াশ মৃত্তিকা উদ্ভিজ বৃদ্ধির পক্ষে সর্বাপেক্ষা অনুকুল।

সচ্ছিদ্রতা (Porosity):


সছিদ্র মৃত্তিকা অর্থাৎ যে সমস্ত মৃত্তিকায় শূন্যস্থানের পরিমাণ বেশী সেই সব মৃত্তিকায় বায়ুচলাচলের পথ সুগম।কিন্তু মৃত্তিকায় শূন্যস্থানের পরিমাণ কম হলে বায়ুর পরিমাণ কম হয়। ফলে এরুপ মৃত্তিকায় বায়ুতে অক্সিজেনের পরিমাণ কম হয়। মৃত্তিকার সচ্ছিদ্রতা নির্ভর করে এথন, গঠন, জৈব পদার্থের পরিমাণ ইত্যাদি বিষয়গুলির উপর।

মৃত্তিকার বর্ন বা রঙ [ Colour of Soil ] : মৃত্তিকার বর্ন বা রঙ হল মৃত্তিকার একটি গুরুত্বপূর্ন ভৌত ধর্ম। আদিশিলা, জৈব পদার্থের পরিমান, জলনির্গমন, বায়ু চলাচল প্রভৃতি বৈশিষ্ট্য দ্বারা মৃত্তিকার বর্ন নির্ধারিত হয়। এছাড়া মৃত্তিকা পরিলেখের বিভিন্ন স্তরের বর্ন থেকে ক্রিয়াশীল মৃত্তিকা গঠন প্রক্রিয়াগুলি সম্পর্কে সঠিক ধারণা লাভ করা যায়। মৃত্তিকার বর্ন থেকে জলবায়ুর প্রকৃতি সম্পর্কেও আমরা জানতে পারি।


Reactions

Post a Comment

0 Comments

Ad Code