আঞ্চলিক মৃত্তিকা ও অনাঞ্চলিক মৃত্তিকার মধ্যে পার্থক্য – Difference between Zonal and Azonal Soil
আঞ্চলিক মাটি:
সংজ্ঞাঃকোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে আদিশিলার প্রভাব ছাড়াই কেবলমাত্র জলবায়ুর উপাদানগুলির প্রভাবে যে মৃত্তিকার সৃষ্টি হয়, তাকে আঞ্চলিক মাটি বলে।মাটি গঠনে জলবায়ুর প্রভাব সবচেয়ে বেশি।একই প্রকার জলবায়ু অঞ্চলে মাত্র এক ধরনের মাটি সৃষ্টি হয়।মাটি গঠন প্রক্রিয়াসমূহের কাজের শেষ পর্যায়ে এই মাটির সৃষ্টি হয়।আঞ্চলিক শ্রেণীর মাটি পরিণত ও একাধিক সুস্পষ্ট স্তরবিশিষ্ট।এই প্রকার মাটি আদিশিলার ওপর স্ব-স্থানিক।আবহবিকারের বিস্তার লাভের ওপর এই মাটির গভীরতা নির্ভর করে।এই মাটি সাধারণত বেশ পুরু হয়।ল্যাটেরাইট, পডসল, সিরোজেম প্রভৃতি আঞ্চলিক মাটির উদাহরণ।
অনাঞ্চলিক মাটি:
মাটি গঠন প্রক্রিয়ার প্রভাব ছাড়াই বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা ক্ষয়প্রাপ্ত শিলাচূর্ণ বাহিত হয়ে দূরবর্তী কোনো অবনত অংশে সঞ্চিত হয়ে যে মাটির সৃষ্টি হয়, তাকে অনাঞ্চলিক মাটি বলে।মাটি গঠনে সক্রিয় বা নিষ্ক্রিয়- কোন উপাদানের প্রভাব থাকে না।জলবায়ুর প্রভাব না থাকায় এক ধরনের মাটি সব জলবায়ুতে দেখা যেতে পারে।মাটি গঠনের কাজ সবসময় চলতে থাকে.অনাঞ্চলিক শ্রেণীর মাটি অপরিণত ও স্তরবিহীন।আদিশিলা থেকে অনেক দূরে পরিবাহিত হয় বলে এই মাটি অস্থানিক প্রকৃতির।পরিবাহিত পদার্থের যোগান ও ভূমিঢালের প্রকৃতির ওপর মাটির গভীরতা নির্ভর করে।এই মাটি সাধারণত কম পুরু হয়।পলিমাটি, লোয়েস, রেগোসল প্রভৃতি অনাঞ্চলিক মাটির উদাহরণ।

0 Comments