ক্রপ ডাইভার্সিফিকেশন সংক্রান্ত যশবীর সিং-এর মডেল (Jasbir Singh's Model of Crop Diversification)
ফ্রি ডাইভার্সিফিকেশন (Crop diversification) বলতে কৃষিজাত শস্যের বৈচিত্র্যকে বোঝায়। যে জমিতে গত বেশি ধরনের শস্য উৎপাদন করা হয় বা চাষ করা হয়, সেই কৃষিজমি তত বৈচিত্র্যময় বা “ডাইভার্সিফারে (diversified) | যশবীর সিং (1976) সালে তাঁর গ্রুপ ডাইভার্সিফিকেশন তত্ত্বটি প্রস্তাব করেন।
যশবীর সিং-এর তত্ত্বের মূলকথা (Salient Features)
তত্ত্বের মূলকথা হল
(1) যে অঞ্চলে কৃষির বিশেষীকরণ (specialization) ঘটেছে, সেখানে একটি বা দুটি প্রধান শস্যের ওপর কৃষিকাজ নির্ভর করে। যেমন - পাঞ্জাব বা পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে গমের চাষ।
(2) যে অঞ্চলে বছরে দুটি বা তিনটি ফসল তোলার সুযোগ আছে, যেখানে গ্রুপ রোটেশন (Crop rotation বা শস্যের চক্রাকার চাষ-এর প্রবণতা বেশি হয়। অর্থাৎ একই জমিতে বিভিন্ন ঋতুতে বিভিন্ন শস্যের চাষ সম্ভব হলে, সেখানে কৃষিতে বৈচিত্র্য বা ডাইভার্সিফিকেশন বেশি হয়ে থাকে।
(3) জলসেচের সুবিধা থাকলে বা নিকটবর্তী শহর থাকলে সেখানে শাকসবজির চাহিদা মেটানোর সুযোগ বাড়ে। ফলে উদ্যানকৃষির মাধ্যমে ফল-ফুলের চাষ বৃদ্ধি পায়।এতে গ্রুপ ডাইভার্সিফিকেশনের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি হয়।
(4) দৈনন্দিন সবজি ও ফল-ফুলের বাজার গ্রুপ ডাইভার্সিফিকেশনকে উৎসাহিত করে।
1 গ্রুপ ডাইভার্সিফিকেশন নির্ণয়ের সূত্র (Methods)
যশবীর সিং কৃষিকাজের ডাইভার্সিফিকেশন নির্ণয়ের উদ্দেশ্যে দু'টি সূত্র প্রস্তাব করেছেন যথা- (1) অর্থনৈতিক ঘনত্ব বা Economic Density (Ed) : সূত্র অনুসারে, Ed - TRP
যেখানে, TRP মোট গ্রামীণ জনসংখ্যাTNSA
TNSA
মোট নিট কর্ষিত জমির পরিমাণ (Total Net Sown Area)
(2) শস্যের কেন্দ্রীকরণের সূচক বা Crop Concentration Index (CCI) : সুত্র অনুসারে, CCI - PAR যেখানে, PAE সমীক্ষার জন্য নির্বাচিত অঞ্চলে মোট ফসলি জমির (Harvested area) সাপেক্ষে 'A'
PAR
শস্যের ফলন অঞ্চলের পরিমাণ (শতাংশ)।
PAR - সমগ্র দেশ বা রাজ্যে 'A' শস্যের ফলন অঞ্চলের পরিমাণ (শতাংশ)।
যশবীর সিং-এর তত্ত্বের মূল্যায়ন (Criticism)
যশবীর সিং-এর প্রস্তাব করা গ্রুপ ডাইভার্সিফিকেশন-এর তত্ত্বটি সহজ এবং গাণিতিক পদ্ধতিটি— (1) সহজে ব্যবহার করা যায়।
(2) এই তত্ত্বের সাহায্যে কোনো অঞ্চালে কৃষির বিশেষায়ণ (specialization) ও বৈচিত্র্যায়ন (diversification)
সম্পর্কে ধারণা করা যায়।
(3) যশবীর সিং-এর তত্ত্বের সাহায্যে মোট নিট কর্ষিত জমিতে গ্রামীণ জনসংখ্যার ঘনত্ব বুঝতে পারা যায়, যা কৃষির আঞ্চলিক পরিকল্পনার জন্য দরকারি তথ্য।
(4) আলোচ্য মডেলটি কোন্ শস্যের প্রাধান্য কতটা, তা বুঝতে সাহায্য করে। ফলে পরীক্ষামূলকভাবে নেওয়া পাইলট প্রকল্পগুলির (pilot project) সাফল্য কেমন, সে সম্পর্কে ধারণা জন্মায়।

0 Comments