Ad Code

Ticker

7/recent/ticker-posts

পৃথিবীর আকার সম্বন্ধে প্রাচীন কাল ধারণা সমূহ// Concept of the Earth's Shape

 পৃথিবীর আকার সম্বন্ধে প্রাচীন কাল ধারণা সমূহ// Concept of the Earth's Shape




●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●

সৌরজগতের সকল গ্রহের মধ্যে একমাত্র পৃথিবীতেই জীবজগতের সৃষ্টি হয়েছে এবং মানুষের বাসভূমি হয়ে উঠেছে। পৃথিবীর ওপর আমরা বসবাস করি বলে সমগ্র পৃথিবীকে আমরা একসাথে দেখতে পাই না, ফলে এর আকার সম্পর্কে সম্পূর্ণ সঠিক ধারণাও করতে পারি না। পৃথিবীর আকার কেমন এ সম্পর্কে অতীতকাল থেকেই মানুষের চিন্তাভাবনার প্রসার ও বিজ্ঞান চর্চার মধ্য দিয়ে মানুষের মনে পৃথিবীর আকার সম্বন্ধে বর্তমানে সঠিক ধারণা গড়ে উঠেছে।



অতীতকাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত পৃথিবীর আকার সম্বন্ধীয় প্রমাণসমূহ 

◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆


কয়েক শত বছর আগেও মানুষের ধারণা ছিল যে পৃথিবী একটি তল বিশিষ্ট এক প্রসারিত ক্ষেত্র। গ্রীক দার্শনিক ও প্রাচীন বিজ্ঞানীরাই প্রথম গোলাকার পৃথিবী সম্বন্ধে ধারণা প্রচার করেন। কিন্তু দীর্ঘকাল যাবৎ ইউরোপীয় রোমান ক্যাথলিক গীর্জার ধর্মীয় নেতাদের কঠোর অনুশাসনের ফলে সর্বসাধারণের মধ্যে এই সত্য প্রচারিত হতে পারেনি।


পৃথিবীর গোলকীয় আকৃতি সম্বন্ধে প্রাথমিক ধারণা প্রচার করেন গ্রীক দার্শনিকরা কিন্তু এর পেছনেও অতীতকালে জাহাজে সাগর-মহাসাগরে পরিভ্রমণকারী নাবিকদের অভিজ্ঞতার অবদান ছিল যথেষ্ট।


◆◆◆◆ খ্রিস্ট জন্মের প্রায় ৬০০ বছর আগে গ্রিক পণ্ডিত পিথাগোরাস ঘোষণা করেন পৃথিবীর আকৃতি গোল এবং গোলকের মতো গোল (Spheroid)। 


◆◆◆◆◆খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতকে গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল পদার্থবিদ্যার সূত্র ও অন্যান্য ধারণার সাহায্যে প্রমাণ করেন পৃথিবী গোলাকার।


◆◆◆◆◆ খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকে গ্রিক জ্যোতির্বিজ্ঞানী এরাটোসথেনিস প্রথম জ্যামিতিক পদ্ধতিতে পৃথিবীর পরিধি নির্ণয় করেন।


◆◆◆◆প্রকৃতপক্ষে ষোড়শ শতকের গোড়ার দিকে পোল্যাণ্ডের বিজ্ঞানী নিকোলাস কোপার্নিকাসের সূর্যকেন্দ্রিক মতবাদ (Heliocentric Theory) •


◆◆◆◆সপ্তদশ শতকে ইংল্যান্ডের গণিত বিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটনের মহাকর্ষ তত্ত্ব উদ্ভাবনের মধ্য দিয়ে পৃথিবীর প্রকৃত আকৃতি ও সম্ভাব্য আয়তন সম্পর্কে মানুষের মধ্যে যুক্তিগ্রাহ্য বিজ্ঞান নির্ভর আধুনিক ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়। 


◆◆◆◆◆এরপর বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন - এই দুই দেশের সফল মহাকাশ অভিযানের ফলেই বিভিন্ন মহাকাশচারী যেমন- ইউরি গ্যাগারিন, ভ্যালেস্তিনা তেরেসকোভা, নীল আর্মস্ট্রং, এডউইন অলড্রিন, ভারতের মহাকাশচারী রাকেশ শর্মা, কল্পনা চাওলা প্রমুখেরা মহাকাশ থেকে পৃথিবীর ছবি তুলতে সমর্থ হলে, মহাকাশ থেকে দেখা বা তোলা ছবি থেকে পৃথিবীর আকৃতির সঠিক ধারণা পাওয়া সম্ভব হয়। 


◆◆◆◆মহাকাশ থেকে তোলা চিত্র অনুযায়ী অন্যান্য গ্রহ নক্ষত্রের ন্যায় পৃথিবীর আকৃতিও গোলাকার।


◆◆◆◆বর্তমানে প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নতির ফলে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রেরিত উপগ্রহগুলির স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরাতে তোলা এবং যান্ত্রিকভাবে প্রেরিত উপগ্রহ চিত্র (Satellite imegary) থেকে পৃথিবীর গোলাকার আকৃতির চিত্র স্পষ্ট বোঝা যায় ।



◆◆◆◆◆◆◆◇◆মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে ঠিক কেমন দেখতে লাগে ? 


পৃথিবী থেকে যেমন চাঁদকে বা সূর্যকে উজ্জ্বল দেখায় ঠিক তেমনিই মহাকাশযান বা চাঁদ থেকে পৃথিবীকে ভীষণ উজ্জ্বল সরলরেখায় খালের স্থির জলে

গোল থালার মতো দেখায় । এর আকৃতি সমতল দেখায় না, গোলকের ন্যায় মনে হয়। ঘন কালো মহাশূন্যে পৃথিবীর যে অংশে অপেক্ষা সামান্য উঁচু রয়েছে।সূর্যের আলো পড়ে, সেই অংশ আলোকিত হয় এবং সমুদ্রের জল বা জলভাগ

নীল; মেঘ ও বরফ সাদা; পাহাড়, পর্বত, মরুভূমি ইত্যাদি হাল্কা থেকে গাঢ় বাদামি; কৃষি ক্ষেত্র ও বনভূমি হলুদ থেকে সবুজ রং এর দেখায়। অপর অংশ যেখানে সূর্যালোক পড়ে না, সেই মহাকাশ থেকে পৃথিবীর চিত্র অংশ অন্ধকারাচ্ছন্ন অর্থাৎ কালো বর্ণের।

Reactions

Post a Comment

0 Comments

Ad Code