Richter scale//রিখটার স্কেল
*************************************
ভূমিকম্পের তীব্রতা পরিমাপক স্কেল হল রিখটার স্কেল (Richter Scale), যা রিখটার ম্যাগনিটিউড স্কেল (Richter Magnitude Scale), লোকাল ম্যাগনিটিউড স্কেল (Local Magnitude Scale) নামেও পরিচিত।
👉 ১৯৩৫ সালে মার্কিন ভূকম্পবিদ চার্লস ফ্রান্সিস রিখটার এই স্কেল উদ্ভাবন করেন। সিসমোগ্রাফ যন্ত্রের সাহায্যে ভূমিকম্প তরঙ্গের বিস্তার পরিমাপ করা হয়।
👉সিসমোগ্রাফে ধারণকৃত তরঙ্গ বিস্তারের পরিমাপের অনুপাতকে রিখটার স্কেলে ১০ভিত্তিক লগারিদমে প্রকাশ করা হয়। তাই, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের তীব্রতা প্রতি ১ মাত্রা বৃদ্ধিতে ভূমিকম্প ১০ গুণ বেশি শক্তিশালী হয়।
,👉অর্থাৎ রিখটার স্কেলে ৬.০ মাত্রার ভূমিকম্পের চেয়ে ৭.০ মাত্রার ভূমিকম্প ১০ গুণ বেশি শক্তিশালী। আবার, ৬.০ মাত্রার ভূমিকম্পের চেয়ে ৮.০ মাত্রার ভূমিকম্প ১০০ গুণ বেশি শক্তিশালী। প্রকৃত অর্থে রিখটার স্কেলের কোনো ঊর্ধ্বসীমা না থাকলেও, সাধারণভাবে বোঝানোর জন্য এতে ০ থেকে ৯ পর্যন্ত সংখ্যা ব্যবহৃত হয়।
রিখটার স্কেল :
👇👇👇👇👇👇👇👇👇👇👇👇👇👉👉
★ তীব্রতার মাত্রা ১.০-১.৯ : ক্ষুদ্র ভূমিকম্প ; প্রতি বছর প্রতিনিয়ত বা কয়েক মিলিয়ন (১ মিলিয়ন = ১০ লক্ষ) এই তীব্রতার ভূমিকম্প হয়। শুধুমাত্র সিসমোগ্রাফে ধরা পড়ে, সাধারণত আমরা কম্পন অনুভব করতে পারি না।
★ তীব্রতার মাত্রা ২.০-২.৯ : হালকা ভূমিকম্প ; প্রতি বছর ১ মিলিয়ন (১ মিলিয়ন = ১০ লক্ষ) -এর অধিক এই তীব্রতার ভূমিকম্প হয়। কিছু সংখ্যক মানুষ কম্পন অনুভব করতে পারেন। ঘরবাড়ির কোনো ক্ষতি হয়না।
★ তীব্রতার মাত্রা ৩.০-৩.৯ : হালকা ভূমিকম্প ; প্রতি বছর ১ লক্ষের অধিক এই তীব্রতার ভূমিকম্প হয়। প্রায়শই আমরা কম্পন অনুভব করতে পারি। ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতি বিরল, তবে ঘরবাড়ির ভেতরের জিনিসপত্র কাঁপতে দেখা যেতে পারে।
★ তীব্রতার মাত্রা ৪.০-৪.৯ : হালকা ভূমিকম্প ; প্রতি বছর ১০-১৫ হাজার এই তীব্রতার ভূমিকম্প হয়। প্রভাবিত অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ কম্পন অনুভব করেন। ঘরবাড়ির ভেতরের জিনিসপত্র আওয়াজ করে কেঁপে ওঠে। ঘরবাড়ির বাইরেও মৃদুভাবে অনুভূত হয়। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ শূন্য থেকে সামান্য।
★ তীব্রতার মাত্রা ৫.০-৫.৯ : মাঝারি ভূমিকম্প ; প্রতি বছর ১০০০-১৫০০ টি এই তীব্রতার ভূমিকম্প হয়। আমরা প্রত্যেকেই কম্পন অনুভব করতে পারি। দুর্বল ঘরবাড়িগুলির অধিক হারে এবং মজবুত ঘরবাড়িগুলির স্বল্প হারে ক্ষয়ক্ষতি হয়।
★ তীব্রতার মাত্রা ৬.০-৬.৯ : শক্তিশালী ভূমিকম্প ; প্রতি বছর ১০০-১৫০ টি এই তীব্রতার ভূমিকম্প হয়। ভূকম্পের উপকেন্দ্রে ব্যাপক কম্পন অনুভূত হয়। উপকেন্দ্র থেকে কয়েকশো কিমি দূরেও কম্পন অনুভব করা যায়। দুর্বল ঘরবাড়িগুলির ব্যাপক এবং মজবুত ঘরবাড়িগুলির মাঝারি ক্ষয়ক্ষতি হয়। ভূমিকম্প প্রতিরোধী ঘরবাড়িগুলি টিকে থাকলেও হালকা থেকে মাঝারি ক্ষয়ক্ষতি হয়।
★ তীব্রতার মাত্রা ৭.০-৭.৯ : প্রধান ভূমিকম্প ; প্রতি বছর ১০-২০ টি এই তীব্রতার ভূমিকম্প হয়। বিরাট এলাকা জুড়ে কম্পন অনুভূত হয়। উপকেন্দ্র থেকে ২৫০ কিমি এলাকা পর্যন্ত ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। অধিকাংশ ঘরবাড়ি আংশিক থেকে সম্পূর্ণ রূপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভূমিকম্প প্রতিরোধী ঘরবাড়িগুলিরও মাঝারি থেকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
★ তীব্রতার মাত্রা ৮.০-৮.৯ : বিশাল ভূমিকম্প ; প্রতি বছর ১ টি এই তীব্রতার ভূমিকম্প হয়। সুবিশাল এলাকা জুড়ে কম্পন অনুভূত হয় এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটে। অধিকাংশ ঘরবাড়ি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। ভূমিকম্প প্রতিরোধী ঘরবাড়িগুলিরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
★ তীব্রতার মাত্রা ৯.০ বা তার অধিক : বিশাল ভূমিকম্প ; প্রতি ১০-৫০ বছরে ১ টি এই তীব্রতার ভূমিকম্প হয়। সুবিশাল এলাকা জুড়ে কম্পন অনুভূত হয় এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটে। প্রায় সবকিছুই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। ভূপৃষ্ঠস্থ ভূমিরূপের স্থায়ী পরিবর্তন ঘটে।

0 Comments