বিউফোর্ট স্কেল Beaufort Scale
*********************************************
বায়ুপ্রবাহের গতিবেগ পরিমাপক স্কেল হল বিউফোর্ট স্কেল (Beaufort Scale), যা পূর্ণনামে বিউফোর্ট বায়ু শক্তি স্কেল (Beaufort Wind Force Scale) নামে পরিচিত। ১৮০৫ সালে আইরিশ হাইড্রোগ্রাফার এবং ব্রিটিশ যুক্তরাজ্যের রয়্যাল নেভি অফিসার ফ্রান্সিস বিউফোর্ট এই স্কেলটি উদ্ভাবন করেন। যদিও, বিউফোর্ট স্কেলের প্রথম আনুষ্ঠানিক ব্যবহার শুরু হয় রবার্ট ফিৎজরয়ের নেতৃত্বাধীন এইচ.এম.এস বিগলের দ্বিতীয় সমুদ্রযাত্রায় (১৮৩১-৩৬)। প্রাথমিকভাবে বিউফোর্ট স্কেলে ১৩ টি শ্রেণী (০ থেকে ১২) ছিল। ১৮৫৩ সালে ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত প্রথম আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সম্মেলনে সাধারণ প্রয়োগযোগ্য হিসেবে বিউফোর্ট স্কেল স্বীকৃতি লাভ করে। ১৯১৬ ও ১৯২৩ সালে বিউফোর্ট স্কেল পরিমার্জিত করা হয়। ১৯৪৬ সালে বিউফোর্ট স্কেলে আরও ৫ টি শ্রেণী (১৩ থেকে ১৭) যুক্ত করা হয়। যদিও এই বর্ধিত বিউফোর্ট স্কেল বর্তমানে শুধুমাত্র টাইফুন কবলিত চিন ও তাইওয়ানে ব্যবহৃত হয়। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) প্রদত্ত সংজ্ঞা অনুসারে বিউফোর্ট স্কেলে ১৩ শ্রেণী (০ থেকে ১২) রয়েছে। এবার, একনজরে দেখা যাক বিউফোর্ট স্কেলের শ্রেণীগুলি।
বিউফোর্ট স্কেল :
(১) শ্রেণী সংখ্যা-০ (বায়ুর গতিবেগ ২ কিমি/ঘন্টার কম),
(২) শ্রেণী সংখ্যা-১ (বায়ুর গতিবেগ ২-৫ কিমি/ঘন্টা),
(৩) শ্রেণী সংখ্যা-২ (বায়ুর গতিবেগ ৬-১১ কিমি/ঘন্টা),
(৪) শ্রেণী সংখ্যা-৩ (বায়ুর গতিবেগ ১২-১৯ কিমি/ঘন্টা),
(৫) শ্রেণী সংখ্যা-৪ (বায়ুর গতিবেগ ২০-২৮ কিমি/ঘন্টা),
(৬) শ্রেণী সংখ্যা-৫ (বায়ুর গতিবেগ ২৯-৩৮ কিমি/ঘন্টা),
(৭) শ্রেণী সংখ্যা-৬ (বায়ুর গতিবেগ ৩৯-৪৯ কিমি/ঘন্টা),
(৮) শ্রেণী সংখ্যা-৭ (বায়ুর গতিবেগ ৫০-৬১ কিমি/ঘন্টা),
(৯) শ্রেণী সংখ্যা-৮ (বায়ুর গতিবেগ ৬২-৭৪ কিমি/ঘন্টা),
(১০) শ্রেণী সংখ্যা-৯ (বায়ুর গতিবেগ ৭৫-৮৮ কিমি/ঘন্টা),
(১১) শ্রেণী সংখ্যা-১০ (বায়ুর গতিবেগ ৮৯-১০২ কিমি/ঘন্টা),
(১২) শ্রেণী সংখ্যা-১১ (বায়ুর গতিবেগ ১০৩-১১৭ কিমি/ঘন্টা),
(১৩) শ্রেণী সংখ্যা-১২ (বায়ুর গতিবেগ ১১৮ কিমি/ঘন্টা বা তার বেশি)।


0 Comments