Ad Code

Ticker

7/recent/ticker-posts

আলফা, বিটা ও গামা বৈচিত্র্য তুলনামুলক আলোচনা কর // উচ্চমাধ্যমিক ভূগোল // সাজেশন ২০২৪//WBHSE//HS GEOGRAPHY// 2024// ALFA, BETA AND GAMMA DIVERSITY

 আলফা, বিটা ও গামা বৈচিত্র্য তুলনামুলক আলোচনা কর // উচ্চমাধ্যমিক ভূগোল // সাজেশন ২০২৪//WBHSE//HS GEOGRAPHY// 2024// ALFA, BETA AND GAMMA DIVERSITY 

 


কোনো নির্দিষ্ট পরিবেশে বা স্বতন্ত্র বাস্তুতন্ত্রে বিভিন্ন প্রকার জীবের বৈচিত্র্যপূর্ণ সমাবেশকে জীববৈচিত্র্য (Biodiversity) বলে। আমেরিকান বাস্তুবিদ রবার্ট হার্ডিং হুইটেকার ১৯৭২ সালে বাস্তুতান্ত্রিক জীববৈচিত্র্য নির্ধারণের জন্য তিনটি সূচক (Index) প্রদান করেন ; যথা -- আলফা বৈচিত্র্য/Alpha Diversity (α-Diversity), বিটা বৈচিত্র্য/Beta Diversity (β-Diversity) ও গামা বৈচিত্র্য/Gamma Diversity (γ-Diversity)।

তিনি কোনো নির্দিষ্ট বাসস্থানে নির্দিষ্ট প্রজাতির সংখ্যা, আয়তন ও ঘনত্ব বোঝাতে উপরোক্ত তিনটি সূচক ব্যবহার করেন। হুইটেকারের মতে, কোনো একটি ভূমিরূপের সামগ্রিক প্রজাতি বৈচিত্র্য (অর্থাৎ গামা বৈচিত্র্য) দুটি বিষয় দ্বারা নির্ধারিত হয় -- স্থানীয় স্তরে কোনো একটি বাসস্থানের গড় প্রজাতি বৈচিত্র্য (অর্থাৎ আলফা বৈচিত্র্য) এবং বিভিন্ন বাসস্থানের মধ্যে প্রজাতির বৈচিত্র্য (অর্থাৎ বিটা বৈচিত্র্য)। 

(১) আলফা বৈচিত্র্যঃ-

একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে উপস্থিত বিভিন্ন প্রকার জীবের বৈচিত্র্যকে আলফা বৈচিত্র্য বলে। আলফা বৈচিত্র্যের মাধ্যমে কোনো অঞ্চলে প্রজাতির প্রাচুর্য (Species richness) সম্পর্কে জানা যায়।

আলফা বৈচিত্র্য হল জীববৈচিত্র্যের ক্ষুদ্রতম একক। আলফা বৈচিত্র্যের মাধ্যমে ওই অঞ্চলে বা বাসস্থানে প্রজাতির স্বল্পতা বা প্রাচুর্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। অধিক আলফা বৈচিত্র্যের অর্থ হল অধিক প্রজাতির প্রাচুর্য।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সুন্দরবনের একটি দ্বীপের জীবগোষ্ঠীর বৈচিত্র্য।

 

(২) বিটা বৈচিত্র্যঃ- 

একটি ভৌগোলিক অঞ্চলের বিভিন্ন সংলগ্ন অঞ্চলের ভিন্ন ভিন্ন বাসস্থানের জীবগোষ্ঠীর মধ্যে যে বৈচিত্র্য দেখা যায়, তাকে বিটা বৈচিত্র্য বলে।  

প্রকৃতিতে প্রতিটি ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ বাসস্থানে উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রজাতির মধ্যে সামান্য পার্থক্য দেখা যায়। যেমন, স্বাদু জলের পুকুর এবং হ্রদ উভয়েই জলজ বাস্তুতন্ত্রের অন্তর্গত হলেও স্বাদু জলের পুকুর এবং হ্রদে উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রজাতির মধ্যে সামান্য পার্থক্য দেখা যায়। এই বৈচিত্র্যই হল বিটা বৈচিত্র্য।

বিটা বৈচিত্র্যে ভিন্ন পরিবেশে বিভিন্ন সম্পদের ওপর নির্ভরশীল হয়। বিটা বৈচিত্র্যের সাহায্যে বৃহৎ অঞ্চলে প্রজাতির মোট সংখ্যার হ্রাসবৃদ্ধি ও ভৌগোলিক বন্টন সহজেই নির্ধারণ করা যায়। আন্তঃপ্রাকৃতিক স্থলজ ও জলজ বাসস্থানে প্রজাতির বিবর্তনের ক্ষেত্রে বিটা বৈচিত্র্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। 

বিটা বৈচিত্র্য নির্ণয়ের সূত্রটি হল : বিটা বৈচিত্র্য = গামা বৈচিত্র্য ÷ আলফা বৈচিত্র্য। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সুন্দরবনের দুটি পাশাপাশি অবস্থিত দ্বীপের জীবগোষ্ঠীর বৈচিত্র্য।

(৩) গামা বৈচিত্র্যঃ-

একটি বৃহৎ ভৌগোলিক অঞ্চলের ভিন্ন ভিন্ন বাস্তুতন্ত্রের বিভিন্ন সম্প্রদায়ভুক্ত জীব প্রজাতির সামগ্রিক বৈচিত্র্যকে গামা বৈচিত্র্য বলে। 

একই গোষ্ঠীর বা প্রজাতির বিভিন্ন বাসস্থানে তথা সামগ্রিক ভাবে কোনো বৃহৎ ভৌগোলিক পরিবেশে গোষ্ঠী বা প্রজাতির মোট সংখ্যা নির্ধারক হল গামা বৈচিত্র্য। অধিক গামা বৈচিত্র্যের অর্থ হল প্রজাতির পৃথকীকরণ এবং ভৌগোলিক অংশীদারিত্বের অনুপস্থিতি। আলফা ও বিটা বৈচিত্র্যের সমষ্টিই হল গামা বৈচিত্র্য।

গামা বৈচিত্র্যের মাধ্যমে বাসস্থান ভিত্তিক প্রজাতির সংখ্যা নির্ধারণ, গোষ্ঠীর স্বল্পতা ও প্রাচুর্য সহজেই নির্ণয় করা যায়। গামা বৈচিত্র্য নির্ণয়ের সূত্রটি হল : গামা বৈচিত্র্য = আলফা বৈচিত্র্য + বিটা বৈচিত্র্য। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সমগ্র সুন্দরবনের বিভিন্ন দ্বীপের জীবগোষ্ঠীর বৈচিত্র্য।

 

 

 


Reactions

Post a Comment

0 Comments

Ad Code