অগ্ন্যুৎপাত ও কারণসমূহ ( concept of Volcanicity and its causes)//class 11//wbhse//GEOGRAPHIA
অগ্ন্যুৎপাতের সংজ্ঞা ও ধারণা (Definition and Concept of Volcanicity)
⚠️ সংজ্ঞা : ভূ-অভ্যন্তরস্থ ভস্ম, বাষ্প, ধোঁয়া, গ্যাসসহ অত্যন্ত উত্তপ্ত তরল পদার্থ বা ম্যাগমা দ্রুতগতিতে ভূপৃষ্ঠের ফাটল বা দুর্বল স্থান দিয়ে বিস্ফোরণসহ অথবা নিঃশব্দে বাইরে নির্গত হওয়ার প্রক্রিয়াকে অগ্ন্যুৎপাত বলে।
অন্যভাবে বলা যায়, অগ্ন্যুৎপাত হল পৃথিবী পৃষ্ঠের উপরে গলিত শিলার (ম্যাগমা) উৎক্ষেপণের ঘটনা যেখানে ভূপৃষ্ঠের কোনো ফাটলের মধ্য দিয়ে লাভা, পাইরোক্লাস্টিক ও আগ্নেয় গ্যাস নির্গত হয় ("Volcanicity is the phenomenon of eruption of molten rock (magma) onto the surface of the earth, where lava, pyroclastics and volcanic gases erupt through a break in the surface.") |
ধারণা : ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগ থেকে ভূগর্ভের দিকে গভীরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় চাপ ও উষ্ণতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকার ফলে ভূগর্ভস্থ পদার্থগুলি স্থিতিস্থাপক ও প্রচণ্ড উত্তপ্ত অবস্থায় বর্তমান থাকে। ভূগর্ভের চাপের ভারসাম্যযুক্ত অবস্থা ভূ-আলোড়নজনিত কারণে বিনষ্ট হলে পদার্থের স্থিতিস্থাপক ধর্মও বিনষ্ট হয় এবং তা গ্যাসযুক্ত তরল পদার্থ বা ম্যাগমায় পরিণত হয়। এই ম্যাগমা ও ম্যাগমা মধ্যস্থ গ্যাসের পরিমাণ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় তা বাইরে নির্গত হওয়ার জন্য ভূ-অভ্যন্তরে প্রবল চাপ তৈরি করে এবং দ্রুতবেগে ভূপৃষ্ঠস্থ কোনো ছিদ্রপথ বা ফাটল দিয়ে বাইরে লাভা রূপে নির্গত হয়। ম্যাগমা নির্গমনের সময়ে অনেকক্ষেত্রে তা ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগে না এসে ভূত্বকের বিভিন্ন অংশেও সঞ্চিত হয়।
ম্যাগমা (Magma) : ভূগর্ভে শিলারাশি অত্যন্ত উত্তপ্ত অবস্থায় থাকলেও উপরিস্থিত শিলাস্তরের প্রবল চাপে শিলারাশির তাপমাত্রা গলনাঙ্কের থেকে কম থাকে। তবে কোনোভাবে উপরিস্তরের চাপ হ্রাসের ফলে শিলার গলন শুরু হয় এবং এর ফলে উৎপন্ন তরল ও ঘন পদার্থকে ম্যাগমা বলে।
ভূত্বকে বা গুরুমণ্ডলের ঊর্ধ্বাংশে ম্যাগমা তৈরি হয়। এটি জল, গলিত শিলারাশি ও গ্যাসের মিশ্রণ। সিলিকার পরিমাণের ভিত্তিতে ম্যাগমা তিন প্রকার-
✅(i) ব্যাসল্টিক ম্যাগমা ঃ এতে সিলিকার পরিমাণ থাকে 50%, তরল প্রকৃতির।
✅ (ii) অ্যান্ডিসাইটিক ম্যাগমা ঃ এতে সিলিকার পরিমাণ থাকে 60%, সান্দ্রতা মধ্যম প্রকৃতির।
✅ (iii) রায়োলাইটিক ম্যাগমা : সিলিকার পরিমাণ প্রায় 90%, অত্যন্ত সান্দ্র প্রকৃতির।
☑️☑️লাভা (Lava) : অগ্ন্যুৎপাতের ফলে আগ্নেয়গিরি থেকে ভূগর্ভস্থ উত্তপ্ত তরল পদার্থ ম্যাগমা বাইরে নির্গত হলে তাকে লাভা বলে। লাভা ভূপৃষ্ঠে বা ভূত্বকের উপরিভাগে সঞ্জিত হয়। লাভা শক্ত হয়ে আগ্নেয়শিলা গঠন করে। শীতলীভবনের ফলে লাভায় কেলাস গড়ে ওঠে।
☑️☑️পিলো লাভা (Pillow Lava) : সর্বাধিক তরল প্রকৃতির ক্ষারকীয় লাভা শীতল ও কঠিন হয়ে বালিশের আকার ধারণ করলে তাকে পিলো লাভা বলে।
⏹️⏹️(প্লিউম (Plume) : অ্যাসথেনোস্ফিয়ারের সান্দ্র ম্যাগমা তপ্ত বিন্দু অঞ্চলে যে ঊর্ধ্বমুখী প্রবাহ গড়ে তোলে তাকে প্লিউম বলে। প্রিউম উপরিস্থিত ভূত্বকের উপর চাপ প্রদান করায় ভূত্বকে ফাটল সৃষ্টি হয় এবং অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।
অগ্ন্যুৎপাতের কারণ (Causes of Volcanicity)
ভূ-আলোড়ন ও অন্যান্য বিভিন্ন কারণে অগ্ন্যুৎপাত ঘটে থাকে। অগ্ন্যুৎপাতের প্রধান কারণগুলি নিম্নরূপ—
✅✅চাপ হ্রাস : ক্ষয়কার্যজনিত কারণে বা অন্যান্য বিভিন্ন কারণে উপরিস্তরের চাপের পরিমাণ হ্রাস পেলে ভূ-অভ্যন্তরস্থ পদার্থের স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট হয়ে গিয়ে তা তরল শিলায় পরিণত হয় এবং আয়তনে বৃদ্ধি পেয়ে প্রবল চাপ তৈরি করে ভূত্বকের ছিদ্র বা ফাটল বরাবর বাইরে বেরিয়ে আসে।
✅✅. ভূত্বকে ফাটল বা দুর্বল স্থানের উপস্থিতি : ভূত্বকের দুর্বল স্থানগুলিতে ভূআলোড়নের প্রভাবে সৃষ্ট সুগভীর সুড়ঙ্গপথ বা ফাটল দিয়ে অগ্ন্যুৎপাত হয়ে থাকে।
➡️➡️পাতের চলন : তিন প্রকার পাতসীমান্তেই অগ্ন্যুৎপাত সংঘটিত হতে দেখা যায়।
👉👉© অভিসারী পাতসীমানায় অগ্ন্যুৎপাত ঃ অভিসারী পাতসীমান্তে ভারী মহাসাগরীয় পাত হালকা মহাদেশীয় পাতের নীচে নিমজ্জিত হওয়ার কারণে ওই নিমজ্জিত পাতের সম্মুখবর্তী প্রান্তভাগ ভূগর্ভস্থ উত্তাপে ম্যাগমায় পরিণত হয়। পরবর্তী সময়ে ভূত্বকের ফাটল দিয়ে সামুদ্রিক জল ভূগর্ভে প্রবেশ করে বাষ্পে পরিণত হয় এবং বাষ্প ও গ্যাসসহ ম্যাগমা ভূগর্ভে চাপ বৃদ্ধি করতে থাকে। এই চাপের মাত্রা অত্যধিক বেড়ে গেলে দুর্বল অভিসারী পাতসীমানায় অগ্ন্যুৎপাত ঘটে থাকে নির্গত ম্যাগমা মহাদেশীয় ভূত্বকে সঞ্জি হয়ে আগ্নেয় বৃত্তমালা বা মহাদেশীয় বৃত্তমালা (Continental Arc) গড়ে তোলে। প্রশান্ত মহাসাগরে নিমজ্জন অঞ্চল থাকায় প্রশান্ত মহাসাগরী আগ্নেয় মেখলা গড়ে উঠেছে। পাতের প্রসারণশীল দিকটির থেকে নিমজ্জন অঞ্চলের দূরত্ব কম হলে সমুদ্রে এবং দূরত্ব বেশি হলে মহাদেশের প্রান্তীয় সীমায় আগ্নেয় বৃত্তমালা গড়ে ওঠে।
✅✅ প্রতিসারী পাত সীমানায় অগ্ন্যুৎপাত : এক্ষেত্রে পরস্পরের বিপরীত দিকে পাতের চলনের ফলে সৃষ্ট ফাটল দিয়ে ভূগর্ভস্থ ম্যাগমার নির্গমন ঘটে এবং মধ্য সামুদ্রিক শৈলশিরা গড়ে তোলে। যেমন-মধ্য আটলান্টিক শৈলশিরা। এক্ষেত্রে বিদার অগ্ন্যুদ্গম হয়ে থাকে
⏹️⏹️সংরক্ষণশীল পাতসীমানায় অগ্ন্যুৎপাতঃ সংরক্ষণশীল বা নিরপেক্ষ পাতসীমানা বরাবর দুটি পাত পরস্পরের বিপরীত দিকে একে অপরকে পাশ কাটিয়ে সঞ্চালিত হলে ট্রান্সফর্ম চ্যুতি গড়ে ওঠে এবং ওই দুর্বল অংশ বরাবর অগ্ন্যুৎপাত হয়। যেমন- ক্যালিফোর্নিয়ার সান আন্দ্রিয়াস চ্যুতি বরাবর অগ্ন্যুৎপাত প্রবণ অঞ্চল।

0 Comments