Ad Code

Ticker

7/recent/ticker-posts

মাটির পরিলেখ বা মাটির হরাইজন// SOIL PROFILE // CLASS 12, GEOGRAPHY. SLST GEOGRAPHY

 মাটির পরিলেখ বা মাটির হরাইজন// SOIL PROFILE // CLASS 12, GEOGRAPHY. SLST GEOGRAPHY 



কোন নির্দিষ্ট  পরিবেশে  যে  মৃত্তিকা সৃষ্টি হয় সেই মৃত্তিকার প্রস্থচ্ছেদ করলে ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে উপর থেকে নিচের দিকে কয়েকটি স্তর গড়ে উঠতে দেখা যায়; যেগুলি ভৌত, রাসায়নিক ও জৈব উপাদানের দিক থেকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যযুক্ত হয়। এই স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যযুক্ত স্তরগুলিকে মৃত্তিকার হরাইজন বলে। মৃত্তিকার বিভিন্ন উপাদান দীর্ঘকাল ধরে অনুভূমিক ও উল্লম্ব ভাবে বন্টিত হয়ে এই  স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যযুক্ত  স্তরে বিন্যস্ত হয়। ভূপৃষ্ঠ থেকে আদি শিলা পর্যন্ত সুবিন্যস্ত মৃত্তিকার এই স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য যুক্ত স্তর সমূহের উলম্ব প্রস্থচ্ছেদকে মৃত্তিকা পরিলেখ বলে। রুশ মৃত্তিকা বিজ্ঞানী ভি.ভি. ডকুচেভ সর্বপ্রথম মৃত্তিকা পরিলেখের কথা বলেন।

বিভিন্ন ভৌত, রাসায়নিক, জৈবিক পরিবেশ ও বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে মৃত্তিকা বিজ্ঞানীগন একটি পরিনত মৃত্তিকার পরিলেখকে চারটি প্রধান স্তরে ভাগ করেন, যথা – O, A, B, ও C স্তর । আবার এই চারটি  স্তরকে জৈব ও অজৈব পদার্থের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে মৃত্তিকা পরিলেখকে দুইভাগে ভাগ করা যায়, যথা – জৈবিক স্তর ও খনিজ স্তর।

১. জৈবিক স্তর (O স্তর) – মৃত্তিকা পরিলেখের উপরের স্তরে জৈব বর্জ্যের পতিত হয়। এই জৈব বর্জ্যগুলি বিয়োজকের দ্বারা বিয়োজিত হয়ে কালো রঙের জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ একটি জৈবিক স্তর গঠন করে। এই জৈবিক স্তরটিকে O স্তর বলা হয়।

জৈব পদার্থের প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে জৈবিক স্তর কে তিনটি উপবিভাগে ভাগ করা হয়।

ক) Oi স্তর – জৈবিক স্তরের উপরের অংশ যেখানে সদ্য পতিত পাতা, ফুল, ফল, কাণ্ড ও মৃত জীব দেহের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

খ) Oe স্তর - Oi স্তরের নিচের উপস্তরটি Oe স্তর নামে পরিচিত। এখানে আংশিক বা অর্ধবিয়োজিত জৈব পদার্থ থাকে।

গ) Oa স্তর – জৈবিক স্তরের সর্বনিম্ন স্তর, এই স্তরের জৈব পদার্থ গুলি সম্পূর্নভাবে বিয়োজিত। এই উপস্তরের রঙ ঘন কালো হয়।

সরলবর্গীয় বনভূমি অঞ্চলের এই জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ ‘O’ স্তরটি ডাফ (Duff) নামে এবং পর্নমোচী অরন্যের জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ ‘O’ স্তরটি মাল (Mull) নামে পরিচিত। 

খনিজ স্তর – জৈবিক স্তরের নিচে মৃত্তিকায় সাধারণত খনিজ পদার্থের সমন্বয় দেখা যায়, তাই O স্তরের নিম্নের স্তর গুলিকে খনিজ স্তর বলে। খনিজ স্তরের অন্তর্ভুক্ত প্রধান স্তর গুলি হল – A স্তর, B স্তর, ও C স্তর।

‘A’ স্তর-‘O’ স্তরের নিচে অবস্থিত এটি একটি খনিজ স্তর। ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি অবস্থান করে বলে এই স্তরটি জৈব পদার্থে সমৃদ্ধ হয়। এই স্তর থেকে ধৌত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রাব্য লবণ, কর্দম, লৌহ ও অ্যালুমিনিয়াম অপসারিত হয় বলে এই স্তরটি সিলিকা সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে এবং স্তরটিকে এলুভিয়েট স্তর বলে। এই স্তরটি 20-30 সেমি পুরু হয়।এই ‘A’ স্তর আবার তিনটি উপস্তরে বিভক্ত। যথা-

ক)‘A¹’ উপস্তর-এটি কৃষ্ণবর্ণের জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ উপস্তর। এই উপস্তরে জৈব পদার্থ সমূহ বিভিন্ন খনিজ উপাদানের সাথে ওতপ্রোতভাবে মিশ্রিত হয়ে ঘন বাদামি বা কৃষ্ণবর্ণের হিউমাস গঠন করে। তাই একে হিউমিক স্তরও বলা হয়।

খ)‘A²’ উপস্তর-এটি একটি হালকা বর্ণের উপস্তর। এই উপস্তরে বড় দানার বালুকণার প্রাধান্য থাকলেও সামান্য জৈব পদার্থ উপস্থিত থাকে। অধিক বৃষ্টিপাত যুক্ত অঞ্চলে এই উপস্তর থেকে খনিজ উপাদান ও জৈব-রাসায়নিক পদার্থগুলি অতি দ্রুত অপসারিত হয়।

গ)‘A³’ উপস্তর-‘A’ ও ‘B’ স্তরের সংযোগস্থলে এই উপস্তর অবস্থান করে।‘B’ স্তর অপেক্ষা ‘A’ স্তরের সাথে এই উপস্তরের অধিক সাদৃশ্য দেখা যায়। তবে সবক্ষেত্রে এই উপস্তর উপস্থিত নাও থাকতে পারে।

B’ স্তর-‘A’ স্তরের নিচে অবস্থিত এটি একটি গাঢ় বর্ণের খনিজ সমৃদ্ধ স্তর।‘A’ স্তর থেকে ধৌত প্রক্রিয়ায় অপসারিত খনিজ পদার্থ সমূহ তথা অ্যালুমিনিয়াম, লৌহ, ম্যাগনেসিয়াম ইত্যাদি এই স্তরে সঞ্চিত হয়। তাই এই স্তরকে ইলুভিয়াল স্তর বলে।এই স্তরে জৈব পদার্থের পরিমাণ ‘A’ স্তরের তুলনায় কম থাকে। এছাড়া ধৌত প্রক্রিয়ায় দ্রাব্য লবণ অপসারণের ফলে এই স্তরের খনিজ কণাগুলির উপর সেস্ক্যুইঅক্সাইডের আবরণ  থাকে। তাই এই স্তরটি অপেক্ষাকৃত গারো বর্ণের হয়।এই ‘B’ স্তর আবার তিনটি উপস্তরে বিভক্ত। যথা-

ক)‘B¹’ উপস্তর-এটি একটি পরিবর্তনশীল উপস্তর, যার বৈশিষ্ট্য ‘A³’ উপস্তরের মতো।তবে এই উপস্তরে জৈব পদার্থের তুলনায় লৌহ ও অ্যালুমিনিয়ামের পরিমাণ বেশি।

খ)‘B²’ উপস্তর-এই উপস্তরে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে কর্দম কণা, লৌহ অক্সাইড ও অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড সঞ্চিত হয়। পডজল মৃত্তিকার এই উপস্তরে হার্ডপ্যান সৃষ্টি হয়।

গ)‘B³’ উপস্তর-এটি একটি পরিবর্তনশীল উপস্তর, যার মধ্যে ‘B’ স্তর অপেক্ষা ‘C’ স্তরের বৈশিষ্ট্য অধিক লক্ষ্য করা যায়।

C স্তর বা হোরাইজোন – মৃত্তিকা পরিলেখের সর্বনিম্ন স্তরটি C স্তর নামে পরিচিত। এই স্তরটি আংশিক বা সম্পূর্ন ভাবে শিলাচূর্ন দ্বারা সৃষ্ট। এই স্তরটি আদিশিলা ও মৃত্তিকার মধ্যে সংযোগ সাধনকারী স্তর।

আদিশিলা (D/R স্তর) - C স্তরের নিম্নে আদিশিলা অবস্থান করে। এই আদিশিলা বা জনক শিলা নিদিষ্ট সময়ের ব্যবধানে আবহবিকার গ্রস্থ হয়ে জৈব পদার্থের সমন্বয়ে মৃত্তিকায় পরিনত হয়।




Reactions

Post a Comment

0 Comments

Ad Code