Ad Code

Ticker

7/recent/ticker-posts

সীমানা (Boundary) ও সীমান্ত (Frontier) ঃ

 সীমানা (Boundary) ও সীমান্ত (Frontier) ঃ





 রাজনৈতিক ভূগোলের গঠনগত উপাদানগুলির মধ্যে সামাজিক, রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক বিভক্তিকরণের যে উদ্দেশ্য নিহিত আছে তার আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি উপাদান হল— (i) সীমানা (Boundary) (ii) সীমান্ত বা সীমান্ত প্রদেশ (Frontier)


সীমানা (Boundary) : 

সীমানা বলতে কোন দেশের ভৌগোলিক সীমারেখা বুঝায় যার মাধ্যমে একটি দেশকে নির্দেশ করা হয়। সীমানার মধ্যে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব বিরাজমান থাকে। অবস্থান, কার্যাবলী, ভৌগোলিক উপাদান, আন্তর্জাতিক ও আভ্যন্তরীণ সম্পর্কের ভিত্তিতে সীমানা নির্ধারিত হয়। খুব সহজভাবে সীমানাকে 2টি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা—


(i) জাতীয় সীমানা (National Boundary) : 

সাধারণত নিজের দেশের মধ্যে বিভিন্ন রাজ্যগুলিকে এই সীমানা দিয়ে আলাদা করা হয়ে থাকে।


(ii) আন্তর্জাতিক সীমানা (International Boundary) : 

আন্তর্জাতিক সীমানা কোন রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতা সূচিত করে। এটি একটি রাষ্ট্রকে অন্য রাষ্ট্র থেকে আলাদা করে। এই সীমানা কর্তৃক নির্ধারিত, এলাকার ভেতর আশেপাশের রাষ্ট্রের কোন অধিকার নেই। যে কোন রাষ্ট্রের স্বাধীকার প্রতিষ্ঠায়, আভ্যন্তরীণ শান্তি রক্ষায়, অর্থনীতি এবং সামাজিক উন্নতি সাধনে এই সীমানার গুরুত্ব সীমাহীন। আবার, এই সীমানা দুই সার্বভৌম রাষ্ট্রের মিলনস্থলও বটে।

আন্তর্জাতিক সীমানাগুলোর প্রকারভেদ (Types of International Boundaries) : S. W. Bogge-এর মতানুসারে, আন্তর্জাতিক সীমানাগুলোর প্রাচীনতম শ্রেণিবিভাগ দুই প্রকার। যথা- (ক) স্বাভাবিক সীমানা ও (খ) কৃত্রিম সীমানা।


(ক) স্বাভাবিক সীমানা : পর্বত, নদী বা হ্রদ প্রভৃতি কিছু প্রাকৃতিক অবয়ব এর সাহায্যে সীমানা চিহ্নিত করা হয়। দেশের সীমানা চিহ্নিত করার উদ্দেশ্যে প্রকৃতি দ্বারা চিহ্নিত রেখাগুলো ব্যবহার করাটাই কাম্য এবং বর্তমান সীমানা থেকে পিছনের দিকে প্রাকৃতিক অবয়বগুলো পর্যন্ত সীমানা সম্প্রসারণ করতে সচেষ্ট হয়েছে। কৃত্রিম সীমানা : ভূমির উপর স্তম্ভ স্থাপন করে মানুষ সীমানা চিহ্নিত করে। Boggs মতামত প্রকাশ করেছেন যে সব সীমানাই কৃত্রিম।


প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম শ্রেণিবিভাগ যুক্তিসঙ্গত নয়। আধুনিককালের রাজনৈতিক ভৌগোলিক পুস্কতগুলোকে দুই প্রকারের শ্রেণিবিভাগে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। যথা (ক) আকৃতিভিত্তিক (খ) উৎপত্তিভিত্তিক।

(ক) আকৃতিভিত্তিক শ্রেণিবিভাগ (Morphological Classification) : আন্তর্জাতিক সীমানাগুলোর অজ্ঞাসংস্থানিক বা আকৃতির উপর ভিত্তি করে এই শ্রেণিবিভাগ করা  শ্রেণিবিভাগ চার শ্রেণির সীমারেখা সণাত্ত করে। যথা 1. প্রাকৃতিক সীমানा (Physical Boundaries) : ভূ-প্রকৃতির যে কোনও বৈশিষ্ট্যকে আশ্রয় করে এই ধরনের সীমানা গড়ে ওঠে। পাহাড় ও পর্বতশ্রেণি, নদনদী, হ্রদ, সমুদ্র বা মহাসাগরীয় উপকূল, জলাভূমি, বনাঞ্চল অথর্ত মরুভূমিকে অনুসরণ করে এক রাষ্ট্রকে অন্য রাষ্ট্র থেকে পৃথকীকরণের উদ্দেশ্যে মানচিত্রের ওপর এই সীমানা অঙ্কন করা হয়। প্রাকৃতিক সীমানা আবার এ প্রকার। যথা—


(i)" পাহাড় ও পর্বত নির্ধারিত সীমানা : কোন দেশের সীমান্তবর্তী অবস্থিত পাহাড় ও পর্বতকে সেই দেশের সীমানা হিসাবে ধরা হয়ে থাকে। যেমন: ফ্রান্স ও স্পেনের মধ্যবর্তী সীমানা নির্দেশের সময় পিরেনীজ পর্বত কোন সমস্যা করেনি সেখানে চিলি ও আর্জেন্টিনার মধ্যবর্তী সীমানা নির্দেশের ক্ষেত্রে আন্দিজ পর্বত এবং চীন-ভারত সীমানা নির্দেশের ক্ষেত্রে হিমালয় পর্বত বহু বাক বিতন্ডার সৃষ্টি করেছে। (i) নদী সীমানা : নদী বরাবর সীমানা নানা সমস্যা সৃষ্টি করে কারণ নদীর প্রস্থচ্ছেদ আছে। এশিয়ার সাতলেডা (শতদ্রু) নদী ভারত পাকিস্তান সীমানা অংশে পরিণত হয়েছে।(iii) হ্রদ সীমানা ও নদীগুলির মত হ্রদ আন্তর্জাতিক সীমানারেখা হিসাবে কাজ করে। যেমন –যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার মধ্যে ইরি হ্রদের মধ্যরেখা এইভাবে দুই রাষ্ট্রের মধ্যে আন্তর্জাতিক সীমানা নির্দেশ করেছে। (iv) উপকূলীয় সীমানা ঃ কোন দেশের উপকূলীয় সীমানা উপকূল থেকে জলভাগের 5 কি.মি দূরত্ব পর্যন্ত ধরা হয়।। (2) জ্যামিতিক সীমানা ( Geometrical Boundaries) জ্যামিতিক সীমারেখাগুলো প্রথম ও সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখা এছাড়া আবর্তন ও ঘূর্ণন বিন্দু হল জ্যামিতিক সীমানা। পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে জ্যামিতিক সীমারেখাগুলো দেখা যায়। সম্ভবত 1818 এ নির্ধারিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার সীমানা সবচেয়ে প্রসিদ্ধ।

(3) নৃভৌগোলিক বা সাংস্কৃতিক সীমানা (Anthropogeographic or Cultural boundaries) :

সাংস্কৃতিক ভূদৃশ্যে উপস্থিত সামাজিক, ভাষাভিত্তিক, ধর্মভিত্তিক ও ঐরূপ অন্যান্য বিভাজন অনুসরণকারী সীমানা।নৃ-ভৌগোলিক সীমানা নামে পরিচিত।

(4) জটিল সীমানা (Complex Boundaries) : আন্তর্জাতিক সীমানাগুলো প্রাকৃতিক বা জাতিগত বিভাজন অনুসরণ করে, আবার সেগুলো জ্যামিতিক শব্দ নির্দেশ করে। তাই বলা যায় প্রত্যেক সীমানাই জটিল।


 (গ) উৎপত্তিভিত্তিক শ্রেণিবিভাগ (Genetic Classification) : উৎপত্তিভিত্তিক সীমানাগুলোকে 4টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা—


(ক) পূর্বগামী সীমানা (Antecedent Boundaries) কোন এলাকায় বসতি স্থাপনের আগেই সে, এলাকার মানুষরা যে সীমানা নির্ধারণ করে তাকে পূর্বগামী সীমানা বলে। বিশাল হ্রদগুলোর পশ্চিম দিকের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যবর্তী সীমানা এবং আলাস্কা ও কানাডার মধ্যবর্তী সীমানাগুলো পূর্বগামী শ্রেণিগুলোর অন্তর্গত।


(ii) পরবর্তী সীমানাগুলো (Subsequent Boundaries) : যে সব আন্তর্জাতিক সীমানা অধুনা প্রচলিত সাংস্কৃতিক ধরনগুলো বিকাশলাভের সময়ে প্রতিষ্ঠিত সেগুলোকে পরবর্তী সীমানা বলে। 1947 এ ধর্মের ভিত্তিতে ব্রিটিশ ভারত বিভক্তির সময় ঐ সীমানাগুলোর পাঞ্জাব ও বাংলার আর্থ- সামাজিক ঐক্য বিভক্ত করেছে।


(iii) উপরিস্থাপিত সীমানাগুলো (Superimposed Boundaries) : পরবর্তী সীমানাগুলোর মত একটি

অর্থনৈতিক বা সাংস্কৃতিক অঞ্চল পূর্ণভাবে বিকশিত এলাকায় উপরিস্থাপিত সীমানাগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়। উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যবর্তী এবং উত্তর ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ ভিয়েতনামের সীমানা এই সীমানার উদাহরণ।


(iv) অনুবর্তী সীমানাগুলো (Consequent Boundaries) : জনবহুল এলাকাগুলোর বিভাজনকারী আন্তর্জাতিক সীমানা অনুবর্তী সীমানা নামে পরিচিত। জনসংখ্যার অনুপস্থিতি বা অন্তরায়ের উপস্থিতি দুইটি জনসংখ্যা স্বতন্ত্র করলে তাকে জনসংখ্যার বিক্ষিপ্ততা এবং পরিবহণ ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে অন্তরায়ের জন্য এই সীমানার সৃষ্টি হয়া।।


সীমান্ত (Frontier) : 

দুটি দেশের যৌথ সীমানার মধ্যবর্তী স্থান যেখানে দুইটি দেশের আধিপত্য থাকে। কোন বিশেষ একটি দেশের আধিপতা থাকে না তাকে সীমান্ত বলে। সীমান্ত এলাকার শ্রেণিবিভাগ :


সীমান্ত এলাকার শ্রেণিবিভাগের বিভিন্ন প্রচেষ্টা হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু শ্রেণিবিভাগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। R. Muir সীমান্ত এলাকার শ্রেণিবিভাগ এটি বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে করেছেন। এগুলি হল— (A) রাষ্ট্রের সার্বভৌম অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্ক বিচারে


(1) রাজনৈতিক সীমান্ত এলাকা : এই প্রকার সীমান্ত এলাকা তখন সৃষ্টি হয় যখন রাষ্ট্রের ন্যায়সম্মত অধিকার হারায় এবং অধিকার বলে হোক কিংবা প্রকৃত প্রস্তাবের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সীমানার সম্প্রসারণ দ্বারা সীমান্ত এলাকার প্রসার ঘটে। রাষ্ট্রের


(b) জনবসতি সমন্বিত সীমান্ত এলাকা : যে সীমান্ত এলাকা রাষ্ট্রের পূর্বতন ন্যায়সম্মত সীমানার মধ্যে প্রসারের অধ্যায়কে সূচিত করে, তাকে জনবসতি সমন্বিত সীমান্ত এলাকা বলে।


এই প্রকার সীমান্ত এলাকা ও প্রকার। যথা- (i) প্রাথমিক জনবসতি সমন্বিত সীমান্ত এলাকা।(ii)মাধ্যমিক জনবসতি সমন্বিত সীমান্ত এলাকা। (iii) শূন্যগর্ভাকার জনবসতি সমন্বিত সীমান্ত এলাকা।


(B) সীমান্ত এলাকার স্বদেশীয় জনসমাজের সঙ্গে সম্পর্কের বিচারে

এই প্রকার সীমান্ত এলাকা দুটি ভাগে বিভক্ত। যথা—


||] অন্তর্ভুক্ত সীমান্ত এলাকা : এই প্রকার সীমান্ত এলাকা স্বদেশীয় জনসমাজের সঙ্গে যুক্ত থাকে।


ii) একচেটিয়া সীমান্ত এলাকা : এই প্রকার সীমান্ত এলাকা স্বদেশীয় জনসমাজের সাথে সংযুক্তকে যেখানে তারা বিচরণ করে।


(C) সীমান্ত এলাকার অগ্রসরমানতার মাত্রা বিচারে


এই সীমান্ত দুপ্রকার। যথা (D) ট্রান্স-সীমান্ত এলাকার সংযোগ মাত্রার বিচারে এই প্রকার সীমান্ত এলাকা দুটি ভাগে বিভক্ত। যথা (i) সংযুক্ত সীমান্ত এলাকা এবং (ii) পৃথকীকৃত সীমান্ত এলাকা।

i) গতিশীল সীমান্ত এলাকা ও (ii) স্থিতিশীল সীমান্ত এলাকা।



Reactions

Post a Comment

0 Comments

Ad Code