Ad Code

Ticker

7/recent/ticker-posts

ভূপৃষ্ঠ প্রবাহঃ সংজ্ঞা এবং গুরুত্ব( surface runoff : definition and importance)

 ভূপৃষ্ঠ প্রবাহঃ সংজ্ঞা এবং গুরুত্ব(  surface runoff : definition and importance) 



Surface runoff

ভু -পৃষ্ঠের মৃত্তিকা (Soil) ও উপমৃত্তিকা (Sub-soil) স্তর অবক্ষেপিত ও দ্বারা সম্পৃক্ত হওয়ার পর যে জলরাশি মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে ঢাল বরাবর প্রবাহিত হয়, তাকে ভূ-পৃষ্ঠ প্রবাহ (Surface Run-off) বলা হয়। এই জল প্রবাহ দুটি প্রধান বিষয়ের উপর নির্ভর করে। যথা- (5) জলবায়ুগত উপাদান ও (২) ভূ-প্রকৃতিগত উপাদান। এই জলপ্রবাহ জলতত্ত্বের একটি অন্যতম উপাদ সাধারণতঃ এই প্রকার জলধারা মাধ্যাকর্ষণের প্রভাবে ভূ-পৃষ্ঠের ঢাল বরাবর প্রবাহিত হয় এবং ক্ষুদ্র নালা থেকে আরম্ভ করে বৃহৎ নদ-নদীর আকারে এই জলধারা প্রবাহিত হয়। এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য যে স্থলভাগের উপরে বৃষ্টিপাত ও অন্যান্য অধঃক্ষেপণের জল যখন পতিত হয়, তখন তার কিছু অংশ মৃত্তিকার স্তর ভেদ করে ভূ-গর্ভে অনুপ্রবেশ করে এবং কিছু অংশ বাষ্পীভবন (Evaporation) ও প্রস্বেদন (Transpiration)-এর মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলে নির্গত হয়। অবশিষ্ট জল ভূ-পৃষ্ঠে ঢাল বরাবর প্রবাহিত হয়। তাই এই প্রকার জলচক্রকে অবশিষ্ট জলপ্রবাহ (Residual Water Flow) হিসাবেও অভিহিত করা হয়। অর্থাৎ ভূ-পৃষ্ঠ প্রবাহ ( Surface Run off) হ'ল মোট বৃষ্টিপাত থেকে ভৌম জল, বাষ্পীভূত জল ও সমুদ্র বা হ্রদে মিলিত জলের বিয়োগ ফল।

 

[ভূ-পৃষ্ঠপ্রবাহ = {(মোট বৃষ্টিপাত – (ভৌমজল + বাষ্পীয়-প্রস্বেদন • সমুদ্রের জল • হ্রদের জল)}] [Surface Run-off = {Total amount of rainfall - (Ground Water + Evapotransperation + Water Storage on Sea + Lake water etc.)}]

এ ভূ-পৃষ্ঠে প্রবাহের সংজ্ঞা (Defenition of Surface Run-off) :

বৃষ্টিপাত ও অন্যান্য অধোক্ষেপনের জল যখন ভূ পৃষ্ঠের উপর দিয়ে জলধারার আকারে প্রবাহিত হয়, তখন তাকে ভূ-পৃষ্ঠে প্রবাহিত জলধারা (Run-off) বলে। পৃথিবীতে পতিত মোট জলধারার ২-৩ অংশ ভূ-পৃষ্ঠের ঢালের সঙ্গে সঙ্গতি রক্ষা করে প্রবাহিত হয়। বিখ্যাত জল তত্ত্ববিশারদ K. R. Karanth

 

ভূ-পৃষ্ঠ প্রবাহ সম্বন্ধে একটি পূর্ণাঙ্গ সংজ্ঞা প্রদান করেন। যেমন

Run-off is the water discharged through streams consisting wholly or in part of water contributed by over land flow and ground water flow.

আবার S. Subramanya এর মতে - Run-off means the draining on flowing off precipitation from a catchment area through a surface channel."

 

অর্থাৎ জলের অধঃক্ষেপণের পর বাষ্পীভবন, পরিস্রাবণ, পরিশোষন প্রভৃতি প্রক্রিয়ার প্রারম্ভিক অপচয়ের পরে ভূমির ঢাল অনুসারে জলের যে প্রবাহ চলে তাই হল ভূ-পৃষ্ঠ প্রবাহ (Surface runoff)) তবে এই পৃষ্ঠপ্রবাহের ক্ষেত্রে জলের প্রবাহের পথে কোন অবনত অঞ্চল থাকলে সেই অংশে জল সঞ্চিত হয়, একে অতল সঞ্চয় (Depression Storage) বলা হয়। এছাড়াও স্তর প্রবাহ (Sheet flow) এবং মা (Channel flow) বিশেষ উল্লেখযোগ্য। বৃষ্টিপাত বা অধঃক্ষেপণের জন্য যখন নির্দিষ্ট গতি ছাড়াই ঢাল অনুযায়ী স্তরে স্তরে প্রবাহিত হয় তখন তাকে স্তরপ্রবাহ বলে। পক্ষান্তরে যখন প্রবাহিত জলধারা ভূ-পৃষ্ঠের উপর নির্দিষ্ট গতিপথ ও খাত অনুযায়ী প্রবাহিত হয়, তখন তাকে পাত্র প্রবাহ বলে। নিম্নলিখিত সারণীতে স্তর প্রবাহ ও খাত প্রবাহের পার্থক্য দেখানো হ'ল অনেকসময় ভূ-পৃষ্ঠে প্রবাহিত জলধারার বিকল্প প্রতিশব্দ হিসাবে 'Overland flow ব্যবহৃত হয়। জলতত্ত্ববিদগণের মতে বারিবিন্দু পতনের সময় থেকে নদীখাতে জলের অনুপ্রবেশের আগে পর্যন্ত ভূ-পৃষ্ঠে প্রবাহিত জলধারা যে স্তর প্রবাহের সৃষ্টি করে তাকেই overland flow বলা হয়। জল বিশারদ লিপলে (Linslay) উল্লেখ করেন যে overland flow যত বেশি হবে তত বেশি ও দ্রুত নদীগাতের প্রবাহ হবে। তবে এই over land flow কতগুলো শর্তের উপর নির্ভর করে। যেমন— মৃত্তিকার প্রকৃতি, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ, বৃষ্টিপাতের তীব্রতা, বাষ্পীভবনের মাত্রা, ভূ-পৃষ্ঠের ঢাল, প্রকৃতির উপর।

 

ভূ-পৃষ্ঠ প্রবাহের গুরুত্ব ( Importance of Surface Run-off) :

 

(বৃষ্টিপাত বা তুষারগলা জলে পুষ্ট কোন স্বাভাবিক জলধারা যখন মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে ভূপৃষ্ঠের ঢাল বরাবর প্রবাহিত হয়ে কোন সমুদ্র বা হ্রদে পতিত হয়। তখন সেই স্বাভাবিক প্রবাহমান জলধারাকে বলা হয় নদী। জলতত্ত্বে এই প্রবাহিত জলরাশিকে দুটি স্রোতে বিভক্ত করা যায় যথা,– (১) ভূ-পৃষ্ঠের উপর দিয়ে প্রবাহিত জলরাশি (Surface-run-off) এবং (২) ভূ-গর্ভে প্রবাহিত জলরাশি (Sub Surface run-off)।

অতএব কোনো স্থানের বা কোন নদী অববাহিকার সমগ্র জলরাশি এই দুই প্রকার জলরাশির মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। এই দুই প্রকার জলপ্রবাহের প্রধান প্রধান গুরুত্বগুলি হ'ল— কোন নির্দিষ্ট নদী অববাহিকা জলচক্রের বিভিন্ন পর্যায় এর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। এই পর্যায় মূলতঃ শীত, গ্রীষ্ম ও বর্ষাঋতু অনুযায়ী পর্যবেক্ষণ করা হয়ে থাকে। অর্থাৎ যে অববাহিকা অঞ্চলে যত বেশি বৃষ্টিপাতের পার্থক্য পরিলক্ষিত হবে সেই অববাহিকাতে তত বেশি নদীপর্যায় লক্ষ করা যাবে।

 

(২) নদী অববাহিকায় জলের ভারসাম্য বা জলের সমতা প্রবাহিত জলধারার উপর বিশেষভাবে নির্ভরশীল। আবার এই প্রবাহিত জলধারা নির্ভর করে মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ, মৃত্তিকার প্রকৃতি, ভূমির ঢাল, সূর্যরশ্মির পতন কোণ প্রভৃতির উপর।

(৩) নদীর আচরণ, নদীখাতের আকৃতি, নদীবিন্যাস প্রভৃতি এই জলধারার স্থান ও কাল অনুযায়ী বণ্টনের উপর নির্ভরশীল। এই জন্য কম বৃষ্টিযুক্ত অঞ্চলে নদীখাতের যে আকৃতি বা বিন্যাস পরিলক্ষিত হয়, অধিক বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলে তার বিপরীত বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়।

(৪) নদী অববাহিকা যুক্ত অঞ্চলে ভূমির ব্যবহার নির্ভর করে প্রবাহিত জলের মোট জোগান বা বন্টনের উপর। ভূ-পৃষ্ঠে জলের যোগান স্বাভাবিক থাকলে সেই অববাহিকা অঞ্চল কি শিল্পে কি কৃষিতে উত্তরাতে, সমৃদ্ধশালী হয়ে উঠবে। অন্যথায় বিপরীত অবস্থা পরিলক্ষিত হয়।

(৫) নদী অববাহিকা অঞ্চলে বিভিন্নপ্রকার জলপ্রবাহজনিত সমস্যাগুলি ভূ-পৃষ্ঠে প্রবাহিত জলধারার উপর বিশেষভাবে নির্ভরশীল। তাই নদী অববাহিকার সুনির্দিষ্ট এবং বিজ্ঞানসম্মত পরিকল্পনার ক্ষেত্রে ভূ-পৃষ্ঠে প্রবাহিত জলধারাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

Reactions

Post a Comment

0 Comments

Ad Code