Ad Code

Ticker

7/recent/ticker-posts

ভূ-পৃষ্ঠপ্রবাহের নিয়ন্ত্রক সমূহ ( Controlling factors of Surface run-off)

  

ভূ-পৃষ্ঠপ্রবাহের নিয়ন্ত্রক  সমূহ ( Controlling factors of Surface run-off) cbcs-3rd semester-geography honours//hydrology and oceanography 




ভূ-পৃষ্ঠপ্রবাহের নিয়ন্ত্রক  সমূহ ( Controlling factors of Surface run-off) :

 

ভূ-পৃষ্ঠের মৃত্তিকা ও উপমৃত্তিকা স্তর অধঃক্ষেপিত জলের দ্বারা সম্পৃক্ত হওয়ার পর যে জলরাশি মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে ঢাল বরাবর প্রবাহিত হয় তাকে ভূ-পৃষ্ঠ প্রবাহ ( Surface-runoff) বলে। এই জলপ্রবাহ দুটি প্রধান বিষয় ও তার বিভিন্ন উপবিষয়গুলির উপর নির্ভর করে। যেমন—

জলবায়ুগত (Climatic factors) :

ভূমিরূপের প্রকৃতি

 

ভূমির ঢাল পৃষ্ঠপ্রবাহের তারতম্য, জলের বন্টন, নদী জলতলের হ্রাসবৃদ্ধি প্রভৃতি জলবায়ুর বিভিন্নপ্রকার বৈশিষ্ট্যের উপর নির্ভরশীল। যেমন

(১) বৃষ্টিপাত্তর ধরণ (Types of Precipitation) : বৃষ্টিপাতের ধরণ একটি অন্যতম জলবায়ু সম্বন্ধীয় পৃষ্ঠপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণকারী কারণ। পরিচলন, ঘূর্ণবাত ও শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত ভূ-পৃষ্ঠে প্রবাহিত জলধারাকে নিয়ন্ত্রণ করে। আকস্মিক বৃষ্টিপাত জলপ্রবাহ সৃষ্টিতে ভূমিকা গ্রহণ করে। পাহাড় বা পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিবাত ঢালে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টির প্রবাহে বেশি পরিমাণ বৃষ্টিপ্রবাহ সৃষ্টি হয় আর অনুবাত ঢালে বৃষ্টিচ্ছায়া অঞ্চলের সৃষ্টি হয়। পরিচলন বৃষ্টিযুক্ত অঞ্চলে বেশি পরিমাণে পৃষ্ঠপ্রবাহ দেখা যায়। তাই কোন অঞ্চলে কি ধরনের বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয় তার উপর ঐ অঞ্চলে পৃষ্ঠপ্রবাহ। (Surface runoff) নির্ভর করে।

 

(২) বৃষ্টিপাতের তীব্রতা (Intensity of Rainfall) :

 

বৃষ্টিপাতের প্রাবল্য ভূ-পৃষ্ঠ ও ভৌমজল প্রবাহকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করে। দেখা যায় কোন অঞ্চলে অধিক সময়ে বৃষ্টিপাতের ব্যপ্তি অনুসৃত (infiltration) বা ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ভূ-গর্ভে উল্লম্ব প্রবাহ এবং সামগ্রিকভাবে ভৌমজলপ্রবাহকে নিয়ন্ত্রিত করে। পক্ষান্তরে স্বল্পপরিসরে অধিক বৃষ্টিপাত ভূ-পৃষ্ঠে প্রবাহিত জলধারাকে ত্বরান্বিত করে এবং নদীর জলতলকে দ্রুত বৃদ্ধি করে। এছাড়া স্বপ্ন পরিসর সময়ের মধ্যে সীমিত অধিক বৃষ্টিপাত নদী উপত্যকায় জলস্ফীতি ও বন্যা ত্বরান্বিত করে। জলের তীব্রতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভূ-পৃষ্ঠে জলপ্রবাহের মাত্রাও বৃদ্ধি পায়, কারণ জল বেশি 'অনুধাবন' (perculate) করার সময় পায় না। তাই অন্যান্য

 

সময়ের চেয়ে বর্ষাকালে অধিক ভূপৃষ্ঠ প্রবাহের সৃষ্টি হয়।

(৩) বৃষ্টিপাতের স্থায়িত্ব (Duration of Rainfall) :

 

কতটা সময় ধরে বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয় তার উপরও ভূ-পৃষ্ঠে জলপ্রবাহ নির্ভর করে থাকে। দীর্ঘসময় ধরে কোন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত হলে জল 'অনুপ্রবেশের' (infiltration) হার হ্রাস পায় এবং ভূ-পৃষ্ঠে জলপ্রবাহ উচ্চহারে বৃদ্ধি পেতে থাকে। অনুকুল পরিস্থিতিতে ভৌমজলের উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়ে ভূ-পৃষ্ঠের নিকটবর্তী জলে অনুপ্রবেশের পরিমাণ শূন্য (০) পৌঁছায়, তখন ভূ-পৃষ্ঠে জলপ্রবাহের সর্বাধিক মাত্রার প্রবাহিত হয়ে ভয়ঙ্কর বন্যার সৃষ্টি করে।

 

(৪) বৃষ্টিপাতের বন্টন (Distribution of Rainfall) : প্রকৃতপক্ষে ভূ-পৃষ্ঠের সর্বত্র বৃষ্টিপাত একইহারে সংঘটিত হয় না। তাই পৃষ্ঠপ্রবাহের মাত্রাও পৃথিবীতে একই হারে দেখা যায় না। যেমন নিরক্ষীয় ও ক্রান্তীয় অঞ্চলে যতটা বেশি পরিমাণে বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয় ততটা উচ্চ অক্ষাংশ ও মরু অঞ্চলগুলিতে হয় না। সেই জন্য নিরক্ষীয় ও ক্রান্তীয় অঞ্চলে বেশি ভূ-পৃষ্ঠ প্রবাহ দেখা যায় উচ্চ অক্ষাংশ ও মরু অঞ্চলের তুলনায়। এছাড়া শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত পর্বতের প্রতিবাত ঢালে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে ঐ ঢালে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত ঘটায়, আর অনুবাত ঢাল বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চলরূপে চিহ্নিত হয়। তাই নদীগুলিও পর্বতের প্রতিবাত ঢাল থেকে উৎপত্তি হয়।

 

(৫) বৃষ্টিপাতের দিক (Distribution of Rainfall) :

 

ভূ-পৃষ্ঠে জলপ্রবাহের ক্ষেত্রে বৃষ্টিপাতের দিক অর্থাৎ জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু কোন দিক থেকে কোন দিকে প্রবাহিত হয় তার উপর অনেকাংশে নির্ভর করে। এই জন্য আয়ন বায়ু অধ্যুষিত অঞ্চলের পূর্বদিকগুলিতে বেশি বৃষ্টিপাত হলেও দেশের পশ্চিম দিকগুলিতে খুব কম বৃষ্টিপাত হয়। ফলে, দেশের পশ্চিমাংশে বেশিরভাগ মরু অঞ্চলের সৃষ্টি হয়। যেমন ভারতের 'থর' মরুভূমি ভারতের পশ্চিমে রাজ্য রাজস্থানে গড়ে উঠেছে।

 

(৬) বাষ্পীয় প্রস্বেদন (Evapotranspiration) :

 

জলের বাষ্পীভবন ও প্রস্বেদন নির্ভর করে সূর্যালোক ও উদ্ভিদের উপর। আবার এই দুই এর মাত্রার উপর কোনো অঞ্চলের ভূ-পৃষ্ঠের জলপ্রবাহ নির্ভর করে থাকে। যেমন নিরক্ষীয় বা ক্রান্তীয় মৌসুমি অঞ্চলে অধিক বৃষ্টিপাত যেমন সংঘটিত হয় তেমনি এই সব অঞ্চলে সূর্যালোক মোটামুটি লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে জল বেশি বাষ্পীভূত হয়। আবার যে অংশ গভীর বনভূমিতে আচ্ছাদিত সেই অঞ্চলে (যেমন নিরক্ষীয় বৃষ্টি অরণ্য অঞ্চল, তৈগা বনভূমি প্রভৃতি) অধিক প্রস্বেদন (Transperation) প্রক্রিয়ায় জল, জলীয় বাষ্পে পরিণত হ্যা পরে ঐ জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে যে বৃষ্টিপাত ঘটায় তাকে অরণাবৃষ্টি বলা হয়য়।

 

(৭)-সূর্যালোক (Sun light) :

 

সূর্যালোক পরোক্ষভাবে ভূ-পৃষ্ঠে জলপ্রবাহকে নিয়ম্বণ করে থাকে। সূর্যরশ্মি যেখানে লম্বভাবে কিরণ দেয় সেখানে অতিরিক্ত জলীয় বাষ্পের সৃষ্টি হয় বলে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হয়। কিন্তু সূর্যরশ্মি যতই তীর্যকভাবে পড়ে সেই অঞ্চলে উষ্ণতার অভাবের জন্য জলীয় বাষ্প সৃষ্টি হতে পারে বলে বৃষ্টিপাতও সম্ভব হয় না। তাই নিরক্ষীয় ও ক্রান্তীয় অঞ্চলে অধিক সূর্যালোকের জন্য অধিক মাত্রায় বৃষ্টিপাত ও ভূ-পৃষ্ঠ প্রবাহের সৃষ্টি হয়। :

 

(৮) বরফগলা জল (Ice melt water)

 

বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global warming) ও সূর্যালোকের প্রভাবে উচ্চ অক্ষাংশগত পার্বত্য অঞ্চলের বরফ গলতে শুরু করে। এই গণিত জল ভূ-পৃষ্ঠে জলপ্রবাহের সৃষ্টি করে নদী রূপে। বরফ বা হিমবাহ থেকে সৃষ্ট জলধারাগুলি সারা বছর সচল থাকে বলে ভূ-পৃষ্ঠ প্রবাহও সারাবছর অবাধে চলতে থাকে।

 

(৯) তুষারপাত্ত (Snow fall) :

 

পৃথিবীর যে সব অঞ্চলে তাপমাত্রা একটা নির্দিষ্ট ঋতুর পর হিমাঙ্কের নিচে নেমে যায় সেই সব অঞ্চলে।অধঃক্ষেপণ প্রধানত বরফরূপে ভূ-পৃষ্ঠে পতিত হয়। এইরূপ বরফপাত তুষারপাত নামে পরিচিত। এরূপ তুষারপাতের ফলে মেরু অঞ্চলও শীতপ্রধান অঞ্চলে সাধারণত বাহ্যিক কোন পৃষ্ঠপ্রবাহ লক্ষ করা যায় না। তবে গ্রীষ্মকালে হিমরেখার স্থান পরিবর্তন ঘটলে ভূ-পৃষ্ঠে সঞ্চিত বরফ ধীরে ধীরে গলতে থাকে তখন ঐ সকল অঞ্চলে কিছু কিছু পৃষ্ঠপ্রবাহ লক্ষ্য করা যায়। ও সামান্য গ্রীষ্মেও ঐ সকল অঞ্চলগুলিতে কৃষিকার্য হতে শুরু করে। মৃত্তিকাতে তৃণ জন্মাতে দেখা যায়।

(১০) বৃষ্টিপাতের ঋতুভিত্তিক বণ্টল (Seasonal distribution of Rainfall) : বৃষ্টিপাত হল বাহ্যিক জলপ্রবাহের সর্বপ্রধান নিয়ন্ত্রক। বৃষ্টিপাতের বন্টন অক্ষাংশের পার্থক্য অনুযায়ী বৈচিত্র্যের কারণের দৃষ্টিপাতের কম নির্ভর করে। তবে অনুগত এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে। জাতীয় মৌসুমী অঞ্চলে সকালে, দাসী অঞ্চলে শীতকালে আবার কোনো কোন অঞ্চলে গ্রীকালে অধিক বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। তাই ঋতু অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন মাত্রা নির্ভর করে থাকে।

 

(১১) পূর্ববর্তী বৃষ্টিপাত (Anticident Rainfall)

 

মদী অববাহিকা অঞ্চলে মৃত্তিকারিতা সৃষ্টিতে অনেকাংশে প্রবাহিত করে। কোন অঞ্চলে মৃত্তিকার আর্দ্রতার পরিমাণ যদি বজায় থাকে তাহলে ঐ অঞ্চলে পরকালে সৃষ্টিপাত হলে 'ভূ-পৃষ্ঠপ্রবাহ' (Run-off) এর পরিমাণ আগের চেয়ে বেশি দ্বিগুণ বৃদ্ধি পায়। কারণ জল আর দুইয়ে মৃত্তিকার অভ প্রবেশ করতে পারে না ফলে বৃষ্টিপাতের পুরো অলটাই ভূ-পৃষ্ঠপ্রবাহ রূপে নদী বা প্রবাহিত হতে থাকে।

(১২) অন্যান্য জলবায়ুগত  অবস্থা (Others climatic condition) :

 

অধঃক্ষেপণ ছাড়া অন্যান্য জলবায়ুগত অবস্থা যেমন তাপমাত্রা, বায়ুর গতিবেগ, আর্দ্রতা, বায়ুমণ্ডলীয় চাপ,সূর্যরশ্মির বিকিরণ প্রভৃতি ভূ-পৃষ্ঠপ্রবাহকে পরোক্ষভাবে হলেও প্রবাহিত করে থাকে। তাই জলপ্রবাহে এদেরঅবদান অস্বীকার করা যায় না।

 

(3) প্রকৃতি গত নিয়ন্ত্রক  (Topographical Factors) :

 

ভূ-প্রকৃতিগত উপাদানের মধ্যে ভূমির ব্যবহার, মৃত্তিকার প্রকৃতি, জলনির্গম প্রণালী, অববাহিকার আয়তন, বনভূমির অবস্থান, শিলার প্রকৃতি, ভূমিরূপের প্রকৃতি, ভূমির ঢাল, ভূমির অবস্থান প্রভৃতি ভূ-পৃষ্ঠের জলপ্রবাহকে নিয়ন্ত্রণ করে। অঞ্চলভেদে এই উপাদানগুলির পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। নিম্নে এই সব উপাদান। গুলি কিভাবে পৃষ্ঠপ্রবাহকে নিয়ন্ত্রণ করে তা আলোচনা করা হল।

(১) ভূমির ব্যবহার (Land use) :

 

ভূমির ব্যবহারের প্রকৃতি, জলধারণ ক্ষমতা, মৃত্তিকার আর্দ্রতা প্রভৃতির উপর ভূ-পৃষ্ঠের জলপ্রবাহ নির্ভর করে। শহরাঞ্চলে জলের 'অনুপ্রবেশ' (Infiltration) কম বলে বৃষ্টিপাতের প্রায় সবটাই ভূ-পৃষ্ঠপ্রবাহ (Surface runoff) আকারে প্রবাহিত হয়। কিন্তু গ্রামাঞ্চলে অধিক কৃষিকাজে জমি ব্যবহার হওয়ার ফলে জল অধিক অনুপ্রবেশ করে ফলে বৃষ্টিপাতের কিছু অংশ ভূ-পৃষ্ঠরূপে প্রবাহিত হয়।

 

(২) মৃত্তিকার প্রকৃতি (Nature of Soil) :

 

মৃত্তিকার প্রকৃতি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অনুপ্রবেশের হারকে নিয়ন্ত্রণ করে। যেমন অধিক বালুকা মিশ্রিত মৃত্তিকাতে জল অনুপ্রবেশের হার অধিক হওয়ায় জলের পৃষ্ঠপ্রবাহ হয় না বললেই চলে যেমন মরু অঞ্চলে। আবার এঁটেল মৃত্তিকা বা কাদা মাটিতে বালির ভাগ কম ও কাদার বা পলিকণার ভাগ বেশি থাকার ফলে জল অতি সহজে চুইয়ে মৃত্তিকায় 'অনুপ্রবেশ' (infiltration) করতে পারে না ফলে এই মৃত্তিকা দ্বারা গঠিত অঞ্চলে অধিক পৃষ্ঠপ্রবাহ দেখা যায়।

 

(৩) অববাহিকার আয়তন ( Area of the Basin) :

 

অববাহিকার (Basin) আয়তনের উপর 'ভূ-পৃষ্ঠ প্রবাহ' (Surface runoff) নির্ভর করে। নদী অববাহিকার আয়তন যত বড় হবে ততই ভূ-পৃষ্ঠে জলপ্রবাহের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে। অপরপক্ষে এর বিপরীত।

 

অবস্থার সৃষ্টি হয়। উদাহরণ স্বরূপ ভারতে গঙ্গানদীর অববাহিকার অঞ্চল সবচেয়ে বড় বলে এর ভূ-পৃষ্ঠপ্রবাহ সবচেয়ে বেশি লক্ষ করা যায়, সে তুলনায় জুনী (অন্তরবাহিনী নদী) অনেক কম জল বহন করে ও তার অববাহিকার আয়তন কম।

 

(৪) অববাহিকার আবৃত্তি (Shape of the Basin) :

 

অববাহিকার আকৃতি বর্গাকার বা বৃত্তাকার হলে যতটা ভাল ভূ-পৃষ্ঠ প্রবাহের সৃষ্টি হতে পারে অববাহিকার আকৃতি সংকীর্ণ হলে তা সম্ভব হয়ে ওঠে না। এই অববাহিকার আকৃতি প্রকাশ করা হয়। 'Circulacity ratio এর দ্বারা। এটা একটি গাণিতিক পদ্ধতি। ভূ-পৃষ্ঠে অবস্থিত নদী অববাহিকাগুলি পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে কি ধরনের আকার বা আকৃতি গঠন করছে, বা কতটা জলপ্রবাহের ক্ষেত্রে সক্ষম তা জানা যায় এই গাণিতিক অনুপাতের দ্বারা।

 

(৬) ভূমিরূপের উচ্চতা (Elevation of topography) :

 

ভূমিরূপের উচ্চতার পার্থক্য এবং গড় উচ্চতা অববাহিকার জলপ্রবাহে প্রভাব বিস্তার করে। অববাহিকা (Basin) অঞ্চল যত উঁচু হবে জলপ্রবাহের মাত্রাও তত দ্রুত হবে। এই জন্য উচ্চ পার্বত্য নদী উপত্যকা অঞ্চলে নদীগুলি অধিক ঢাল সৃষ্টি করে দ্রুত গতিতে নিচের দিকে ধেয়ে আসে। যেখানে জলের গতিও থাকে দ্রুত এবং নদীগুলি পার্শ্ব ক্ষয় না করে নিক্ষো করে থাকে। কিন্তু নিম্ন উচ্চতাযুক্ত অববাহিকা অঞ্চলে অল্প ঢাল ও উচ্চতা কম থাকায় ঝাল দ্রুত যেন এক স্থান থেকে অনাস্থানে যেতে পারে না তেমনি অধিক বৃষ্টি হলে হঠাৎ বন্যা (Flash Flood)র সৃষ্টি হয়।

 

(৬) জল নিকাশি  (Drainage Pattern) :

 

ভালনির্গম প্রণালী কোন অববাহিকা অঞ্চলে যত বেশি হবে সেই অববাহিকা অঞ্চল গুল অনুপ্রবেশের তুলনায় ভূ-পৃষ্ঠ প্রবাহ বেশি দেখা যাবে। আবার জলনির্গম প্রণালীর প্রকারভেদের উপরও জলপ্রবাহ নির্ভর করে যেমন বৃক্ষরূপী (Dendratic) নী ও বহিঃ বা অন্তঃকেন্দ্রমুখী জলনির্গম প্রণালীতে ঝাল অনুপ্রবেশের মাত্রা হ্রাস পায়৷ ফলে পৃষ্ঠপ্রবাহ ঐ সব অঞ্চলে অধিক দেখা যায়।

 

(৮) শিলার প্রকৃতি (Nature of Rocks) :

 

ভূ-পৃষ্ঠে তিন (আগ্নেয়া, পাললিক ও রূপান্তরিত শিলা) ধরনের শিলার অস্তিত্ব চোখে পড়ে। পৃথিবী পৃষ্ঠের বিভিন্ন অঞ্চল বিভিন্ন প্রকার শিলা দ্বারা গঠিত হওারায় জলপ্রবাহ বা অনুপ্রবেশের মাত্রারও ভারতম্য লক্ষ করা যায়। উদাহরণস্বরূপ পাললিক শিলা দ্বারা গঠিত অঞ্চল অনুপ্রবেশের মাত্রা বেশি হ্যা, কিন্তু আমের শিলা দ্বারা গঠিত ভূমিভাগ অঞ্চলে জল অনুপ্রবেশ ঘটে না বললেই চলে ফলে পৃষ্ঠপ্রবাহ অধিক দেখা যায়।

 

(৮) ভূমির অবস্থান (Location of the Land)

 

ভূমিরূপের অবস্থানগত কারণ বলতে ভূমিরূপ বা তুমি ভাগটি কোন জলবায়ু অঞ্চলে অবস্থিত তা বোঝায়। কারণ বৃষ্টিপাত বা বিভিন্ন জলধারা হতে পৃষ্ঠপ্রবাহ কতটা হবে তা নির্ভর করে ভূমিরূপটি কোন জলবায়ুর অন্তর্গত এবং ঐ অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কতটা তার উপর। সমীক্ষা করে দেখা গেছে যে, কোন নদী অববাহিকায় বৃষ্টিপাত অধিক ঘটলে অথবা বরফগলা জলের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে অববাহিকার অন্তস্থ নদীখাতের ঝালধারণ ক্ষমতা হতে বেশি পরিমাণ জল হওয়ার জন্য ঐ নদীঘাতের জল তলের হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে। হাইড্রোগ্রাফের (Hydrograph) রেখাচিত্রের সাহায্যে এই জলতলের হ্রাস-বৃদ্ধি নথিভুক্ত করা হয়ে থাকে।তাই ভূমির অবস্থানগত দিকটি পৃষ্ঠ অলপ্রবাহের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষভাবে কার্যকরী একথা অস্বীকার করা চলে

 

(১০) স্বাভাবিক উদ্ভিদের  অবস্থান (Location of vegetation) :

 

কোন অঞ্চলের মৃত্তিকা বনভূমি বা স্বাভাবিক উদ্ভিদ দ্বারা আবৃত বা অনাবৃত আছে তার উপর ভূ-পৃষ্ঠ নির্ভর করে থাকে। মৃত্তিকাস্থ উদ্ভিদ একদিকে যেমন জলধারাকে বা মৃত্তিকার অভ্যন্তরভাগের জলধারাকে শোষণ করে। অন্যদিকে বাষ্পমোচন প্রক্রিয়াও (evapotranspiration) চালাতে সক্ষম হ্যা। তাই দেখা যায়। যেখানে ভূমিভাগে স্বাভাবিক উদ্ভিদের ঘনত্ব বেশি সেইসব অংশে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশি হ্যা। সেই অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের কিছু অংশ উদ্ভিদের দ্বারা শোষিত হ্যা ফলে ভূ-পৃষ্ঠ প্রবাহ কিছুটা কম লক্ষ করা যায়। কিন্তু যে সকল অঞ্চলে উদ্ভিদের অবস্থান লক্ষ করা যায় না সেই অঞ্চলে প্রবাহিত জলধারার পরিমাণ বেশি লক্ষ করা

 

(১০) ভূমিরূপের গঠন (Structure of the topography) :

 

ভূমিরূপের গঠন চরিত্রের উপরই নির্ধারিত হয়। ভূ-প্রকৃতির আদি চরিত্র বা রূপ। অর্থাৎ ভূ-তাত্ত্বিক আভ্যন্তরীণ গঠনই সৃষ্টি করে ভূমিরূপের সামগ্রিক তথ্য। আঞ্চলিক ঢাল তার সঙ্গে সঙ্গতি বজায় রেখে জলধারাও প্রবাহিত হয়। কিছু প্রবাহের পরিমাণ এবং প্রবাহ ধারার চরিত্র বহুলাংশে ভূ-তাত্ত্বিক গঠনের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। সমীক্ষায় দেখা গেছে যে কোন ভূমিরূপ আদিশিলা অর্থাৎ আগ্নেয় বা প্রাথমিক শিলার দ্বারা গঠিত হলে তার উপর দিয়ে ভূ-পৃষ্ঠ প্রবাহ বেশি হয় কারণ জল 'অনুপ্রবেশ' (infiltration) করতে পারে না। কিন্তু শিলাটি যদি দারন যুক্ত (crack) হয় তাহলে সেক্ষেত্রে প্রবাহিত জলধারার বেশ কিছু পরিমাণ এই দাবনের মধ্যে প্রবেশ করে ভূ-গর্ভস্থ হয় এবং এর ফলে ভূ-প্রকৃতির উপর প্রবাহিত জলধারার পরিমাণ হ্রাস পায়।

 

(১১) মৃত্তিকার আর্দ্রতার পরিমাণ (Amount of Soil moisture) :

 

বর্ষাকালের চেয়ে গ্রীষ্মকালে বেশি উত্তাপের দরনা মাটির আর্দ্রতার পরিমাণ কমে যায়। কিন্তু গ্রীষ্মের পরে যখন বর্ষার সূচনা হয় তখন ভূ-পৃষ্ঠ (Surface run-off) পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। আবার শীতকালে মাটির আর্দ্রতা বেশি থাকলে বৃষ্টিপাত হয় না বললেই চলে ফলে জলপ্রবাহের পরিমাণ কম হয়। বর্ষাকালের শেষের দিকে মাটি অত্যাধিক আর্দ্রতার প্রভাবে বৃষ্টি কম হলেও অধিক ভূ-পৃষ্ঠ প্রবাহ লক্ষ করা যায়, ফলে বন্যার (flood) প্রভাব লক্ষ করা যায়।

Reactions

Post a Comment

0 Comments

Ad Code