Classification of Surface Run-off//ভূপৃষ্ঠ প্রবাহের প্রকারভেদ//cbcs 3rd semester hydrology and oceanography
ভূ-পৃষ্ঠ প্রবাহের প্রকারভেদ (Classification of Surface Run-off) : সাধারণভাবে বৃষ্টিপাত ও অধঃক্ষেপণের ফলে
যে জলধারার প্রবাহ হ্যা, তাকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা ভূ-পৃষ্ঠপ্রবাহ ( Surface run-off) : যখন ভূ-পৃষ্ঠের উপর দিয়ে জলধারার প্রবাহ
হয়, তাকে ভূ-পৃষ্ঠ প্রবাহ বলে। ওভারল্যাণ্ড ফ্লো (overland flow) ও নদীপ্রবাহ এর
ফলে সৃষ্টি হয়। যখন কোন অধঃক্ষেপণ কোন ভালধারার উপর প্রবাহিত সৃষ্টি হয় তাকে
খাতপ্রবাহ (channel flow) বলে। কখনও কখনও এইরূপ অনেক খাতপ্রবাহ মিলিত হয়ে
নদীপ্রবাহের সৃষ্টি করে তখন তাকে অববাহিকা প্রবাহ (catchment flow) বলা হয়। হয় তখন তাকে খাত অধঃক্ষেপণ (Channel
precipitation) বলে এবং অধঃক্ষেপণের ফলে যে নদীপ্রবাহের
(২) ভূ
-অভ্যন্তরস্থ প্রবাহ ( Sub Surface run-off) : যখন ভূ-পৃষ্ঠস্থ জল মৃত্তিকার স্তর ভেদ
করে ভূ-গর্ভে অনুপ্রবেশ করে এবং ভৌমজলের (water lable) ঢাল অনুযায়ী যখন প্রবাহিত হয়,
তখন তাকে ভূ-অভ্যন্তরস্থ প্রবাহ বলে। চুনাপাথর (Karst) অঞ্চলে ভূমিরূপ উদ্ভবের ক্ষেত্রে
এই প্রকার ভৌম জলধারার প্রবাহ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। এছাড়া এই ভৌমজল প্রবাহ
অনেকক্ষেত্রে প্রভেদ্য স্তরের মাধ্যমে নদী উপত্যকায় প্রবেশ করে। এই প্রবাহ সাধারণত
খুব ধীর গতিসম্পন্ন হয়। আবার অনেক সময় এই জল যখন শিলার ফাটলের মধ্য দিয়ে বাহির হয়
তখন তাকে বলে ঝর্ণা (Spring)। এই ধরনের ঝর্ণা বাঁকুড়া জেলার শুশুনিয়া পাহাড়ে দেখা
যায়।
(৩) ভিত্তিপ্রবাহ
(Base flow ) :
ভূ-পৃষ্ঠস্থ
জল যখন অনুপ্রবেশ (infiltration) প্রক্রিয়ার বিভিন্ন প্রবেশ্য শিলান্তরের মধ্য
দিয়ে অনুপ্রাণ (perculation) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কঠিন শিলাস্তরের উপর ভৌমজলস্তর
রূপে সঞ্চিত হ্যা তখন তাকে ভিত্তি জলসঞ্চয় বলে। এই সঞ্চিত জল নিচে অপ্রবেশ্য শিলা
থাকায় আর অভ্যন্তরভাগে প্রবেশ করতে পারে না। কিন্তু ভূ-অভ্যন্তরে শিলার ঢাল বরাবর
এই জলরাশি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলে যেতে সচেষ্ট হয়। এর ফলে পার্বত্য বা
মালভূমি অঞ্চলে স্বাভাবিক জলধারার সৃষ্টি হয়। যা পরবর্তীকালে ঝর্ণা রূপে
প্রতীয়মান হয় ভূ-পৃষ্ঠের বাহিরে।
→ হার্টন
এর প্রবাহ সম্পর্কে ধারণা (Horton's law of Run-off) :
ভূ-পৃষ্ঠের
উপর দিয়ে জলের প্রবাহকে বলা হয় প্রবাহিত জলধারা। এদের মধ্যে ‘স্তরপ্রবাহ' (Sheet
flow) এবং 'খাত প্রবাহ' (Channel flow) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই প্রবাহ সম্পর্কে
প্রথম ধারণা দেন জলতত্ত্ব বিশারদ R.E. Horton ১৯৪৫ সালে। তিনি বহু পরীক্ষা,
নিরীক্ষা এবং বিশ্লেষণের পর জলপ্রবাহ সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট মডেল উপস্থাপন করেন।
যাতে পৃথিবীর যেকোন অংশে জলপ্রবাহের সৃষ্টির কারণ ও প্রক্রিয়া ভালোভাবে বোঝা
সম্ভবপর হয়।
এই
সূত্রটি হলো—
R=
P(1+ET + OLG) যেখানে, R প্রবাহ (Runoff)
52
P = অধঃক্ষেপণ
(precipitation)
ET =
বাষ্পীয় প্রস্বেদন (Evapotransperation) QLG = ভৌমজলের প্রকৃতি (Nature of Ground
water)
1= অনুসৃত
(Inflitration)
হর্টনের
মতে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা (intensity) যদি মাটিতে জল অনুপ্রবেশের ক্ষমতার
(Infiltration capacity) চেয়ে বেশি হয় তবেই পৃষ্ঠপ্রবাহ (runoff) সৃষ্টি হবে।
তিনি আরো বলেন যে বৃষ্টিপাত সংঘটিত হওয়া মাত্রই পৃষ্ঠপ্রবাহ সৃষ্টি হয় না। এই
প্রবাহ নির্ভর করে মাটির জলগ্রহণ করার ক্ষমতা, বৃষ্টির পরিমাণ, ভূমির ঢাল প্রভৃতির
উপর.

0 Comments