সামুদ্রিক প্রক্রিয়াসমূহ এবং সংশ্লিষ্ট ভূমিরূপ পার্ট ২
২৬) পুরোদেশীয় বাঁধ কি?
উঃ- সমুদ্র তরঙ্গের ক্ষয়কার্যের ফলে, অগভীর সমুদ্রে নুড়ি, বালি, কাঁকর, কাদা প্রভৃতি সঞ্চিত হয়ে উপকূলের সমান্তরালে যে আংশিক নিমজ্জিত বাঁধ তৈরি করে তাকে পুরোদেশীয় বাঁধ বলে।
২৭) ) ওয়াডেন কি?
উঃ- পুরোদেশীয় বাঁধ ও স্পিটের পিছনের লবনাক্ত জলাভূমিকে নেদারল্যান্ডে ওয়াডেন (Wadden) বলে। ধরনের জলাভূমিগুলিকে জার্মান ভাষায় ওয়াতেন বলে।
২৮) টম্বেলো কি?
উঃ- যখন কোনো একটি বাঁধ একটি বা দুটি দ্বীপকে উপকূলের সাথে সংযুক্ত করে তখন সেই বাঁধকে টম্বেলো বলে। এটি একধরনের চর বাঁধ। ভারতের তুতিকোরিনের কাছে হেয়ার দ্বীপটি মূল ভূখন্ডের সাথে টম্বেলো দ্বারা যুক্ত।
২৯) স্পিট কি?
উঃ- যে বাঁধের একটি অংশ স্থলভাগের সাথে যুক্ত এবং অন্য অংশটি সমুদ্রের মধ্যে প্রসারিত তাকে স্পিট বলে। ভারতের ওড়িশার চিল্কা লেগুনের কাছে একটি স্পিট আছে।
৩০) কাস্পেট স্পিট কি?
উঃ- দুটি সমুদ্রাভিমুখী বক্রাকার স্পিট সমুদ্রে পরস্পরের সাথে মিলিত হলে বা একটি স্পিট হুকের মতন বেঁকে পুনরায় স্থলভাগের সাথে যুক্ত হলে তাকে কাস্পেট স্পিট বলে।
৩১) তটভূমি কি?
উঃ- উপকূল রেখা থেকে মহীসোপানের প্রান্তভাগ পর্যন্ত প্রসারিত অঞ্চলকে তটভূমি (Shore) বলে। এটি উপকূলের সামনের সমুদ্রমুখী অংশ। সমুদ্রের সঞ্চয় কার্যের ফলেই এই ভূমিরূপ সৃষ্টি হয়।
৩২) সৈকত/বেলাভূমি কি?
উঃ- তটভূমির উপর সমুদ্র তরঙ্গ বাহিত নানা আকারের শিলাখন্ড, নুড়ি, কাঁকর, বালি প্রভৃতি সঞ্চিত হয়ে সমুদ্রের দিকে ঈষৎ ঢালু প্রায় সমতল যে ভূমি গড়ে ওঠে তাকে সৈকত/বেলাভূমি বলে।
৩৩) উপকূলীয় বালিয়াড়ি কি?
উঃ- উপকূল অঞ্চলে তীব্র গতিতে বায়ু প্রবাহের ফলে সমুদ্র সৈকতের বালি উড়ে গিয়ে স্তূপাকারে দীর্ঘ স্থান জুড়ে সঞ্চিত হলে তাকে ঊপকূলীয় বালিয়াড়ি বলে। পশ্চিমবঙ্গের দীঘা উপকূলে এবং ওড়িশা উপকূলে এরকম বালিয়াড়ি দেখা যায়।
৩৪) বে বার ও লুপ বার কি?
উঃ- স্পিট ক্রমশ বাড়তে বাড়তে উপসাগরের সম্মুখে যে বাঁধ গড়ে ওঠে তাকে বে বার বলে এবং দ্বীপের এক প্রান্ত থেকে স্পিট বৃদ্ধি হতে হতে বেশ কিছুটা গিয়ে অর্ধগোলাকারে প্রধান ভূখন্ডের সাথে যুক্ত হলে তাকে লুপ বার বলে।
৩৫) লেগুন কি?
উঃ- যখন কোনো পুরোদেশীয় বাঁধ বা স্পিট উপসাগরের সামনে সমুদ্র বাঁধ হিসাবে এমন ভাবে অবস্থান করে যে উপসাগরের মুখ প্রায় বন্ধ হয়ে যায় তখন বাঁধের পিছনে অর্থাৎ স্থলভাগের দিকে মূল ভূখন্ড ও সমুদ্র বাঁধের অন্তর্বর্তী অংশে সমুদ্রের লবনাক্ত জল আংশিক ভাবে আবদ্ধ হয়ে যে জলাভূমি গড়ে তোলে তাকে লেগুন বলে।
৩৬.)সমুদ্র তটরেখার ভৃগুর উৎপত্তির প্রধান কারণ কী?
উঃ সমুদ্রের দিক বরাবর শিলাস্তরের নতি ঢালের বিন্যাস, শিথিল শিলাখণ্ডের স্তরায়ন তল বরাবর অবস্থান।
৩৭) পশ্চাৎ তটভূমির ঊর্ধ্বসীমা বা ভৃগুর পাদদেশ সীমারেখাকে কী বলে?
উঃ পশ্চাৎ তটভূমির ঊর্ধ্বসীমা বা ভৃগুর পাদদেশ সীমারেখাকে উপকূলরেখা বলে।
৩৮) সামুদ্রিক অবক্ষেপণ কাকে বলে ?
উঃসমুদ্র দ্বারা ক্ষয়জাত ও বাহিত পদার্থগুলি উপকূলের নিকটবর্তী স্থানে সঞ্চিত হলে, তাদের সামুদ্রিক অবক্ষেপণ বলে।
৩৯) ভারতের বৃহত্তম লেগুনের নাম কি ?
উঃ- ওড়িশার চিল্কা।
৪০) পৃথিবীর বৃহত্তম লেগুনের নাম কি?
উঃ- নিউ ক্যালিডোনিয়া লেগুন।
৪১) প্রবাল কি?
উঃ- সমুদ্রে বসবাসকারী অতি ক্ষুদ্রাকার এক প্রাণী যা 'সিলেন টেরেটা' গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত যারা নিজেদের সুরক্ষিত রাখার জন্য নিজেদের দেহের চারিপাশে ক্যালশিয়াম কার্বোনেট বা চুনের একটি আবরণ গড়ে তোলে তাদের প্রবাল বলে।
৪২) অ্যাটল কি?
উঃ- প্রবালপ্রাচীর গঠনের শেষ পর্যায়ে গঠিত সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সামান্য উঁচু বৃত্তাকার বা প্রায় বৃত্তাকার উপহ্রদ বেষ্টনকারী প্রবাল প্রাচীরকে অ্যাটল বা প্রবাল বলয় বলে।
৪৩) পৃথিবীর বৃহত্তম অ্যাটলের নাম কি?
উঃ- এলিস দ্বীপের ফুনিফাটি অ্যাটল।
৪৪) ফ্যারো কি?
উঃ- ক্ষুদ্রাকৃতির অ্যাটলকে ফ্যারো বলে।
৪৫) প্রান্তদেশীয় প্রবাল প্রাচীর কি?
উঃ- প্রবালকীট জন্মানোর উপযোগী পরিবেশে সমুদ্রে মহীসোপানের খাড়া তটভূমি বরাবর সংকীর্ণ বলয়াকারে যে প্রবাল প্রাচীর গড়ে ওঠে তাকে প্রান্তদেশীয় প্রবাল প্রাচীর বলে।
৪৬) প্রতিবন্ধক প্রবাল প্রাচীর কি?
উঃ- কোনো প্রবাল প্রাচীর প্রশস্ত অগভীর উপহ্রদ দ্বারা স্থলভাগ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকলে তাকে প্রতিবন্ধক প্রবাল প্রাচীর বলে।
৪৭) পৃথিবীর বৃহত্তম প্রবাল প্রাচীরের নাম কি?
উঃ- অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট বেরিয়ার রিফ।
৪৮) খাড়া ভৃগু গঠিত হয় কখন?
উঃউপকূল অঞ্চল ঘনকাকার দারণবিশিষ্ট গ্রানাইট শিলার এবং উল্লম্ব দারণযুক্ত ব্যাসল্ট শিলা দ্বারা গঠিত হলে খাড়া ভৃগু গঠিত হয়।
৪৯) জিও কী ?
উঃ একাধিক ব্লো-হােল সমুদ্রতরঙ্গ দ্বারা সংযুক্ত হলে যে লম্বা,সংকীর্ণ খাজ সৃষ্টি হয়, তাকে বলে জিও।
৫০) ক্যাজম কী ?
উঃ সমুদ্র ভৃগু খাঁজ সমুদ্রতরঙ্গের আঘাতে বিস্তৃত হয়ে যে খাদ সৃষ্টি করে, তাকে বলে ক্যাজম।
৫১) ভারতের কোথায় স্ট্যাক ও স্ট্যাম্প দেখা যায় ?
উঃগােয়া উপকূলে।
0 Comments